কানাডার অনন্য পশ্চিমা ব্যাঙ

কানাডার অনন্য পশ্চিমা ব্যাঙ

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ১১ জুলাই, ২০২৬

কানাডার বন্যপ্রাণীর পরিচয় বলতে সাধারণত বিভার, মুজ, নেকড়ে বা ভালুকের কথাই উঠে আসে। কিন্তু এবার সেই তালিকায় নতুন গুরুত্ব পেল এক উভচর প্রাণী। বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন, ওয়েস্টার্ন টোড (Anaxyrus boreas) বা পশ্চিমা ব্যাঙের একটি জিনগতভাবে অনন্য জনগোষ্ঠীর বাস শুধু কানাডাতেই। এই সন্ধান শুধু দেশের জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে নতুন তথ্যই দিচ্ছে না, প্রজাতিটির ভবিষ্যৎ সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অটোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের মতে, আধুনিক জিনগত বিশ্লেষণ প্রযুক্তি ব্যবহার করে এমন গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে, যা দীর্ঘদিনের গবেষণাতেও ধরা পড়েনি। কানাডার আলবার্টা ও ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশের বিভিন্ন পুকুর, জলাভূমি ও হ্রদ থেকে পূর্ণবয়স্ক ব্যাঙ এবং ব্যাঙাচির নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এরপর তাদের ডিএনএ বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে জিনগত সম্পর্ক পরীক্ষা করা হয়। দেখা গেছে, কানাডিয়ান রকি পর্বতমালার পূর্ব ও পশ্চিমে বসবাসকারী পশ্চিমা ব্যাঙের মধ্যে স্পষ্ট জিনগত পার্থক্য রয়েছে। রকি পর্বতমালার পূর্বাঞ্চলের ব্যাঙগুলোর গলায় ভোকাল স্যাক বা স্বরথলি থাকে। প্রজনন মৌসুমে তারা সঙ্গী আকর্ষণের জন্য ডাক দেয়। অন্যদিকে, পশ্চিমাঞ্চলের ব্যাঙগুলোর স্বরথলি নেই এবং তারা কোনো প্রজনন ডাকও দেয় না। আগে থেকেই এই আচরণগত পার্থক্যের কথা জানা ছিল। তবে এই পার্থক্যের সঙ্গে জিনগত ভিন্নতাও যে সরাসরি সম্পর্কিত, এবার তার প্রমাণ পাওয়া গেল। জাইনা বার্গম্যান বলেন, “জিনগতভাবে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র একটি জনগোষ্ঠী, যা শুধু একটি কানাডিয়ান প্রদেশেই সীমাবদ্ধ, এমন ঘটনা অত্যন্ত বিরল। আমাদের ফলাফল বলছে, বিশেষ করে আলবার্টার পশ্চিমা ব্যাঙগুলোর সংরক্ষণে আরও গুরুত্ব দেওয়া উচিত, কারণ এদের মধ্যেই প্রজাতিটির জিনগত বৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ সংরক্ষিত রয়েছে।” বর্তমানে কানাডায় পশ্চিমা ব্যাঙকে সংরক্ষণের সমস্যাযুক্ত প্রজাতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। উভচর প্রাণীরা পরিবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা পোকামাকড়ের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। অনেক পাখি, সরীসৃপ ও স্তন্যপায়ী প্রাণীর খাদ্য হিসেবেও এদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ । রকি পর্বতমালাই সম্ভবত এই দুই জনগোষ্ঠীকে হাজার হাজার বছর ধরে আলাদা করে রেখেছে। পাহাড় এবং দুই পাশের ভিন্ন জলবায়ুর কারণে ব্যাঙগুলোর চলাচল সীমিত হয়েছে, ফলে তারা আলাদা জিনগত বৈশিষ্ট্য গড়ে তুলতে পেরেছে। তাছাড়া দক্ষিণ কানাডিয়ান রকি অঞ্চলে পশ্চিমা ব্যাঙের তৃতীয় একটি জিনগত জনগোষ্ঠীরও সন্ধানও মিলেছে। এই জনগোষ্ঠী দক্ষিণ-পূর্ব ব্রিটিশ কলাম্বিয়া ও দক্ষিণ আলবার্টায় বাস করে। গবেষকদের ধারণা, এর বিস্তৃতি যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানা অঙ্গরাজ্য পর্যন্তও হতে পারে। আসলে পশ্চিমা ব্যাঙের বিবর্তনের ইতিহাস বিজ্ঞানীরা আগে যতটা সরল ভাবতেন, বাস্তবে তা অনেক বেশি জটিল।

 

সূত্র: Earth . com ; July ; 2026; Main article from ‘ Diversity and Distribution’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

5 × three =