কার্বন শোষণের বদলে কার্বন নিঃসরণ   

কার্বন শোষণের বদলে কার্বন নিঃসরণ   

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

পৃথিবীর জলবায়ু ব্যবস্থায় সমুদ্রের ভূমিকা শুধু তাপ শোষণেই সীমাবদ্ধ নয়; বিপুল পরিমাণ কার্বনও সমুদ্রের গভীরে সঞ্চিত থাকে। কিন্তু আটলান্টিক মহাসাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলসঞ্চালন ব্যবস্থা ‘অ্যাটলান্টিক মেরিডিয়োনাল ওভারটার্নিং সার্কুলেশন’ (এ এম ও সি) দীর্ঘসময়ের নিরিখে ভেঙে পড়লে এই প্রাকৃতিক কার্বন-সঞ্চয় ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন ঘটতে পারে। পটসডাম ইনস্টিটিউট ফর ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট রিসার্চ (PIK)-এর নতুন গবেষণা অনুযায়ী, এ এম ও সি -এর পতনের ফলে দক্ষিণ মহাসাগর পরিণত হতে পারে কার্বন শোষক থেকে কার্বন নিঃসারক অঞ্চলে । এর ফলে বিশ্ব উষ্ণায়নের সঙ্গে অতিরিক্ত ০.১৭–০.২৭°C তাপমাত্রা যুক্ত হতে পারে।

কমিউনিকেশন্স আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট পত্রিকায় এ গবেষণার বিবরণটি প্রকাশিত হয়েছে। বিজ্ঞানীরা বায়ুমণ্ডলীয় CO₂ ঘনত্বের পরিস্থিতিতে ভিন্ন ভিন্ন জলবায়ু মডেল ব্যবহার করে এ এম ও সি -এর পতনের প্রভাব পরীক্ষা করেন। উত্তর আটলান্টিকের দিকে এ এম ও সি উষ্ণ জল পরিবহন এবং দক্ষিণমুখী ঠান্ডা জলের প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে বৈশ্বিক তাপ ও কার্বন সঞ্চালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দেখা গেছে, বায়ুমণ্ডলে CO₂-এর মাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই সঞ্চালন ব্যবস্থার স্থিতিশীলতাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

প্রাক-শিল্প যুগের CO2 ২৮০ ppm মাত্রায় স্বাদু জলের প্রবাহ বাড়িয়ে এ এম ও সি বন্ধ করে দিলেও তা পরে পুনরায় সচল হতে পারে। কিন্তু CO₂-এর মাত্রা ৩৫০ ppm বা তার বেশি হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হবে। এই সীমার ওপরে এ এম ও সি একবার ধসে পড়লে দীর্ঘমেয়াদে তার পুনরুদ্ধার নাও হতে পারে। বর্তমান বায়ুমণ্ডলে CO₂-এর মাত্রা প্রায় ৪৩০ ppm, যা এই সীমার যথেষ্ট ওপরে।

এ এম ও সি বন্ধ হলে সমুদ্রের গভীর স্তরে সঞ্চিত কার্বনসমৃদ্ধ জল আরও বেশি পরিমাণে ভূপৃষ্ঠে উঠে আসবে। ফলে বায়ুমণ্ডল থেকে CO₂ শোষণের পরিবর্তে দক্ষিণ মহাসাগর ওই গ্যাস ছাড়তে শুরু করতে পারে। এই অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণ উষ্ণায়নকে আরও ত্বরান্বিত করবে, তৈরি হবে একটি উদ্বেগজনক জলবায়ু-প্রতিক্রিয়াচক্র।

গবেষণায় আঞ্চলিক পরিবর্তনের মাত্রাও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ৪৫০ ppm CO₂-এর একটি পরিস্থিতিতে এ এম ও সি পতনের পর অ্যান্টার্কটিকার তাপমাত্রা প্রায় ৬°সে বাড়তে, আর আর্কটিক অঞ্চলের তাপমাত্রা প্রায় ৭°সে কমতে পারে। অর্থাৎ AMOC-এর পতন শুধু বৈশ্বিক গড় উষ্ণায়ন বাড়াবে না, পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের জলবায়ুর ভারসাম্যও আমূল বদলে দিতে পারে। গবেষকদের মতে, বর্তমান সময়ে CO₂ নিঃসরণ যত বাড়বে, ভবিষ্যতে এ এম ও সি -এর পতনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত উষ্ণায়নের ঝুঁকিও তত তীব্র হবে।

সূত্র: https://www.pik-potsdam.de/en/news/latest-news/amoc-collapse-could-turn-southern-ocean-into-carbon-source-adding-0-2degc-to-global-warming

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 + 2 =