ইঁদুরের গন্ধ শনাক্ত করার গ্রাহীকোষ বা রিসেপ্টর নিয়ে তৈরি হয়েছে এক নতুন মানচিত্র, যা ঘ্রাণশক্তি সম্পর্কিত দীর্ঘদিনের ধারণাকে বদলে দিচ্ছে। এই গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, নাকের ভেতরের কোষকলায় প্রায় ১,১০০ ধরনের গন্ধ-সংবেদী বা অলফ্যাক্টরি গ্রাহীকোষ অত্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে সাজানো। পাশাপাশি আরেকটি গবেষণায় এই গ্রাহীকোষগুলির সঙ্গে মস্তিষ্কের গন্ধ-সংবেদী বাল্বের সংযোগেরও বিস্তারিত মানচিত্র তৈরি হয়েছে। এতদিন ধারণা ছিল, নাকের এপিথেলিয়াম কয়েকটি বড় অঞ্চলে বিভক্ত এবং সেখানে গন্ধ-সংবেদী কোষ বেছে নেওয়া হয় এলোমেলোভাবে। ইয়োহান লুন্ডস্ট্রোম (কারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট) জানান, গত তিন দশক ধরে ছাত্রদের এই তত্ত্বই পড়ানো হয়েছে। কিন্তু নতুন গবেষণা বলছে, বাস্তবে এই বিন্যাস অনেক বেশি নিয়ন্ত্রিত। প্রায় ৫০ লক্ষ নিউরন বিশ্লেষণ করে ‘সিঙ্গল-সেল সিকোয়েন্সিং’ ও ‘স্পেশাল ট্রান্সক্রিপ্টোমিক্স’ প্রযুক্তির সাহায্যে দেখা যায়, গন্ধ-সংবেদী কোষগুলি এলোমেলোভাবে নয়, বরং নাকের উপর থেকে নীচ পর্যন্ত সরু সরু ফিতের মতো সাজানো। গবেষক সন্দীপ রবার্ট দত্ত (হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুল) বলেন, প্রতিটি গ্রাহীকোষের একটা নির্দিষ্ট অবস্থান রয়েছে, সেগুলো মিলিয়ে হাজারেরও বেশি বিজড়িত ফিতে তৈরি হয়। এই বিন্যাস ভ্রূণাবস্থায় তৈরি হয় এবং জিন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এখানে একটি ‘রেটিনোইক অ্যাসিড’ অণু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে,। এর ঘনত্বের তারতম্য নিউরনকে নির্দেশ দেয় কোন গ্রাহীকোষ তৈরি হবে। বিশেষজ্ঞ জোয়েল মেইনল্যান্ড (মোনেল কেমিক্যাল সেন্সেস সেন্টার) মনে করেন, এই আবিষ্কার ঘ্রাণবিজ্ঞানের এক বড় ধাঁধার সমাধান করেছে। আরও গুরুত্বপূর্ণ, নাকের এই মানচিত্রের প্রতিফলন মস্তিষ্কের গন্ধ-সংবেদী বাল্বেও দেখা যায়, অর্থাৎ নাক ও মস্তিষ্ক বিকশিত হওয়ার একই নিয়ম মেনে কাজ করে। ভবিষ্যতে স্টেম সেল দিয়ে ঘ্রাণশক্তি ফিরিয়ে আনতে গেলে নাকের পুরো অংশ জুড়ে এই সঠিক বিন্যাস গড়ে তোলা জরুরি হবে। যদিও গবেষণাটি ইঁদুরের উপর করা হয়েছে, কিন্তু বিজ্ঞানীদের ধারণা, মানুষের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ব্যবস্থা থাকতে পারে, যা নিয়ে এখন আরও গবেষণা চলছে।
সূত্র: doi: https:// doi. org/10. 1038 /d41586-026-00894-1
