মধ্যপ্রদেশের ডিন্ডোরি বন বিভাগের জঙ্গলে শুরু হয়েছে শালগাছ কাটার কাজ। শাল বোরার পোকা – তারই আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ১ লক্ষ ৪৬ হাজার শালগাছ। আর এতগুলি গাছ কাটার অনুমতি দিয়েছে বন দফতর। এখনও পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার গাছ কাটা হয়েছে। বৃষ্টির কারণে কাজের গতি কম। আগামী বছরের মার্চের মধ্যে কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। কাটা গাছ রাখার জন্য গাধারসাইয়ের কাছে তৈরি হয়েছে অস্থায়ী ডিপো। এত বিপুল সংখ্যক গাছ কাটার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন প্রধান মুখ্য বনপাল রাম প্রসাদ। তাঁর মতে, গাছ কাটার আগে স্বাধীন সমীক্ষা এবং বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয় অংশীদারদের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন ছিল। কোথায় কতটা পোকার আক্রমণ হয়েছে, কেন হয়েছে এবং গাছ কাটা আদৌ একমাত্র সমাধান কি না, এসব বিষয়ও স্পষ্ট হওয়া দরকার। প্রসাদের মতে, একটি নির্দিষ্ট এলাকায় শাল বোরার আক্রমণ বেশি হওয়ার কারণও খতিয়ে দেখা জরুরি। জঙ্গলের গঠন, মাটির অবস্থা, আগুন, অতিরিক্ত চারণ এবং প্রাকৃতিক পুনর্জন্মের ঘাটতি – সবকিছুর প্রভাব থাকতে পারে। তাঁর বক্তব্য, জঙ্গলের মূল্য শুধু কাঠের দামে মাপা যায় না। বন মাটি ধরে রাখে, জল শোষণ করে এবং পুরো বাস্তুতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখে। ডিন্ডোরির কিছু এলাকায় ছোট গাছপালা ও ঝোপঝাড় কমে যাওয়ায় মাটির জলধারণ ক্ষমতা কমছে, বাড়ছে মাটি ক্ষয়ের ঝুঁকি। “আক্রান্ত গাছ কেটে ফেলাই কি সমাধান, নাকি সমস্যার মূল কারণও খুঁজতে হবে?” এই প্রশ্নই তুলেছেন প্রসাদ। তাঁর মতে, বড় আকারে গাছ কাটার আগে বন-বাস্তুতন্ত্রের সমস্যা বোঝা এবং দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ পরিকল্পনা করা জরুরি। বিশেষ করে, শালবনে অন্য প্রজাতির গাছ কেন কমে গিয়ে বন ধীরে ধীরে প্রায় একক শালবনে পরিণত হচ্ছে, সেটিও তদন্ত করা প্রয়োজন।
সূত্র:Down To Earth; September ; 2026
