চন্দ্রযান-৩ চাঁদের কক্ষপথে প্রবেশ করল

চন্দ্রযান-৩ চাঁদের কক্ষপথে প্রবেশ করল

ভারতের সর্বশেষ মহাকাশ মিশন গত শনিবার চন্দ্রের কক্ষপথে প্রবেশ করেছে। ভারতের এটি চন্দ্রে অবতরণের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় প্রচেষ্টা। এর আগে শুধুমাত্র রাশিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন, চন্দ্র পৃষ্ঠে নিয়ন্ত্রিতভাবে অবতরণ করতে সক্ষম হয়েছে। চন্দ্রযান-৩, সংস্কৃতে যার অর্থ “মুনক্রাফ্ট”, -এর উৎক্ষেপণ হয়েছিল ১৪ জুলাই ২০২৩ সালে দুপুর ২.৩৫ মিনিটে। ইন্ডিয়ান স্পেস রিসার্চ অর্গানাইজেশন (ইসরো) নিশ্চিত করেছে যে চন্দ্রযান-৩, তার উৎক্ষেপণের তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় পরে সফলভাবে চন্দ্র কক্ষপথে ঢুকতে পেরেছে। যদি বর্তমান মিশনটির বাকি অংশ পরিকল্পনা অনুযায়ী চলে, তবে ২৩ থেকে ২৪-শে আগস্টের মধ্যে মিশনটি নিরাপদে চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছে স্পর্শ করবে। চাঁদে পৌঁছনোর ভারতের শেষ প্রচেষ্টা চার বছর আগে ব্যর্থ হয়েছিল, যখন মাটিতে অবতরণের কিছু মুহূর্ত আগে যোগাযোগ ছিন্ন হয়েছিল।
ISRO দ্বারা তৈরি, চন্দ্রযান ৩-এ বিক্রম নামে একটি ল্যান্ডার মডিউল এবং প্রজ্ঞা নামে একটি রোভার রয়েছে। বিক্রম অর্থাৎ বীরত্ব আর প্রজ্ঞা অর্থাৎ জ্ঞান। ল্যান্ডারটির ওজন প্রায় ১৫০০ কেজি এবং তার পেটের মধ্যে রয়েছে ২৬ কেজির রোভার। মহাকাশযানটি এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করার পরে, একটি স্লিংশট কৌশলের মাধ্যমে ট্রান্সলুনার কক্ষপথে পাঠানো হয়েছিল। এখন যেহেতু নৌযানটি চাঁদের কক্ষপথে প্রবেশ করেছে, বিজ্ঞানীরা ধীরে ধীরে রকেটের গতি কমাতে শুরু করেছেন যাতে বিক্রমের অবতরণ মসৃণ হয়। অবতরণের পর, ছয় চাকার রোভারটি বেরিয়ে আসবে ও চাঁদের পৃষ্ঠের শিলা এবং গর্তের চারপাশে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং চিত্র সংগ্রহ করতে ঘুরে বেড়াবে। এই তথ্য ও ছবি পৃথিবীতে পাঠানো হবে।
ISRO-র প্রধান কর্মকর্তা এস সোমানাথের কথা অনুযায়ী রোভারটি পাঁচটি যন্ত্র বহন করছে যা চাঁদের পৃষ্ঠের বৈশিষ্ট্য, পৃষ্ঠের কাছাকাছি বায়ুমণ্ডল এবং টেকটোনিক কার্যকলাপ সম্পর্কে জানার উপর গুরুত্ব আরোপ করবে। তিনি আরও বলেন যে চাঁদের দক্ষিণ মেরু এখনও অনেকাংশে অনাবিষ্কৃত এবং এই পৃষ্ঠের ক্ষেত্রটি ছায়ায় আবৃত এবং বিজ্ঞানীদের অনুমান ছায়াযুক্ত অঞ্চলে জলের সম্ভাবনা রয়েছে।