চাঁদে মানুষের বসতি গড়ার পরিকল্পনা জোরকদমে চলছে। বিভিন্ন দেশ ও ধনী ব্যক্তিরা চাঁদে স্থায়ীভাবে থাকার কথা ভাবছেন। কিন্তু সেখানে শহর তৈরি হলে জল আর বিদ্যুৎ আসবে কোথা থেকে? এই প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজেছেন স্মিথসোনিয়ান অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল অবজারভেটরি-র দুই জ্যোতির্বিজ্ঞানী মার্টিন এলভিস ও জোনাথন ম্যাকডাওয়েল। বিদ্যুতের ক্ষেত্রে অবশ্য আশার আলো রয়েছে। চাঁদের মাটিতে প্রায় এক কিলোমিটার উঁচু টাওয়ারে সৌর প্যানেল বসিয়ে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ তৈরি করা যাবে। হিসাব বলছে এভাবে প্রায় ৩ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া সম্ভব। এমনকি চাঁদের মাটিতে থাকা সিলিকন ব্যবহার করে ভবিষ্যতে সেখানেই সৌর প্যানেল তৈরি করে নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু সমস্যা হল জল। চাঁদের উত্তর ও দক্ষিণ মেরুতে প্রচুর জল বরফ হয়ে রয়েছে – প্রায় ১০০ কোটি টন। শুনতে অনেক, কিন্তু বড় শহরের জন্য এই জল খুবই সীমিত। একবার ব্যবহার করে ফেলে দিলে, ১০ লক্ষ মানুষের একটি শহর, কয়েক বছরের মধ্যেই জলশূন্য হয়ে যাবে। ১ লক্ষ মানুষের ক্ষেত্রে ওই জল চলবে প্রায় ২০ বছর। একই জল বারবার ব্যবহার করলে অবশ্য মেয়াদ অনেকটাই বাড়বে। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে প্রায় ৯৮ শতাংশ জল পুনর্ব্যবহার করা হয়। একই ব্যবস্থা চাঁদে করা গেলেও ১০ লক্ষ মানুষের শহর প্রায় ১০০ বছর চালানোর মতো জল পাওয়া যাবে। তাই বড় শহর গড়তে হলে জলের অপচয় প্রায় বন্ধ করতে হবে। ৯৯.৫ শতাংশেরও বেশি জল পুনর্ব্যবহার, কম জলে চাষের ব্যবস্থা এবং চাঁদে নতুন জলের উৎস খুঁজে বের করা- এ সবই দরকার। আপাতত ছোট চন্দ্র-শহরই বেশি বাস্তবসম্মত। প্রায় ১০ হাজার মানুষ নিয়ে একটি বসতি তৈরি করা গেলে, পর্যাপ্ত জল থাকলে, সেটি কয়েক শতাব্দী পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে।
সূত্র: Physicsworld; September 2026
