চিনি -মাখা ন্যানোকণা ও গ্লিওব্লাস্টোমা

চিনি -মাখা ন্যানোকণা ও গ্লিওব্লাস্টোমা

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ২৭ জুলাই, ২০২৬

মস্তিষ্কের সবচেয়ে আক্রমণাত্মক ও প্রাণঘাতী ক্যানসার গ্লিওব্লাস্টোমা। তারই চিকিৎসায় নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে চিনির আবরণযুক্ত ন্যানোকণা (সুগার-কোটেড ন্যানোপার্টিকল)। এটি মস্তিষ্কের সুরক্ষা বেড়া বা ব্লাড-ব্রেন ব্যারিয়ার অতিক্রম করে সরাসরি টিউমার কোষে ওষুধ পৌঁছে দিতে পারে। এতে সুস্থ কোষের ক্ষতির আশঙ্কাও কম।

ন্যানোকণাগুলির ভিতরে রয়েছে লিপিড-ভিত্তিক বাহক। তার মধ্যে এমন মেসেঞ্জার আরএনএ রাখা হয়েছে যা PTEN নামের একটি গুরুত্বপূর্ণ টিউমার-দমনকারী প্রোটিন তৈরির নির্দেশ বহন করে। গ্লিওব্লাস্টোমা রোগীদের ক্ষেত্রে এই PTEN প্রোটিনের কার্যকারিতা প্রায়ই নষ্ট হয়ে যায়, ফলে ক্যানসার কোষ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এই ন্যানোকণাটির বাইরের অংশ ঘনভাবে ম্যানোজ নামে এক ধরনের চিনির অণু দিয়ে আবৃত করা হয়েছে। এই ম্যানোজ GLUT1 নামের একটি পরিবাহক প্রোটিনকে ব্যবহার করে। এই প্রোটিন সাধারণত গ্লুকোজকে ব্লাড-ব্রেন ব্যারিয়ার পেরিয়ে মস্তিষ্কে পৌঁছে দেয়। গবেষকেরা ম্যানোজকে কোলেস্টেরলের সঙ্গে যুক্ত করে এমনভাবে ন্যানোকণার আবরণটি তৈরি করেছেন, যাতে এটি আগের তুলনায় ছয় গুণ বেশি কার্যকরভাবে GLUT1-এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে এবং রক্তে থাকা স্বাভাবিক গ্লুকোজের সঙ্গেও প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম হয়। মস্তিষ্কে পৌঁছানোর পর এই ন্যানোকণাগুলি মূলত টিউমার টিস্যুতেই জমা হয়। কারণ, গ্লিওব্লাস্টোমা কোষে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি GLUT1 থাকে, যা তাদের উচ্চ শক্তির চাহিদা পূরণে সাহায্য করে। সেখানে পৌঁছে mRNA আবার PTEN প্রোটিন তৈরি করতে সাহায্য করে এবং কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে আনে। ইঁদুরের উপর পরীক্ষায় এই পদ্ধতিতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য মিলেছে। চিকিৎসা না করলে টিউমার যেখানে মস্তিষ্কের প্রায় ৫২ শতাংশ জুড়ে বিস্তৃত হয়েছিল, সেখানে নতুন চিকিৎসার পর তা কমে মাত্র ২.৩ শতাংশে নেমে আসে। পাশাপাশি ইঁদুরগুলির আয়ুও গড়ে ৩৩ দিন থেকে বেড়ে ৪৯ দিন হয়েছে, অর্থাৎ প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। গবেষণায় শরীরের প্রধান অঙ্গগুলিতে উল্লেখযোগ্য কোনো বিষক্রিয়ার প্রমাণও পাওয়া যায়নি। তবে গবেষকেরা জানিয়েছেন, এই প্রযুক্তি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। মানুষের ওপর ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু করার আগে এর কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন। যদি ভবিষ্যতের পরীক্ষাগুলিও সফল হয়, তবে গ্লিওব্লাস্টোমার মতো দুরারোগ্য মস্তিষ্ক ক্যানসারের চিকিৎসায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হতে পারে।

 

সূত্র: Oregon State University Newsroom (2026) and Journal of Controlled Release.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

10 + ten =