জলবায়ু পরিবর্তনের একটি অদ্ভুত দিক বহুদিন ধরেই বিজ্ঞানীদের কৌতূহলের বিষয়। পৃথিবীর পৃষ্ঠ ও বায়ুমণ্ডলের নীচের দিক যত গরম হচ্ছে, উপরের বায়ুমণ্ডল ততই ঠান্ডা হয়ে পড়ছে। বিজ্ঞানীরা এটিকে মানুষের তৈরি জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম স্পষ্ট চিহ্ন বলে মনে করেন। তবে এর পিছনের সঠিক প্রক্রিয়াটি এতদিন পুরোপুরি পরিষ্কার ছিল না। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়-এর ল্যামন্ট-ডোহার্টি আর্থ অবজারভেটরির গবেষকেরা এই রহস্যের এক স্পষ্টতর ব্যাখ্যা দিয়েছেন। গবেষণার নেতৃত্বে ছিলেন শন কোহেন। তাঁর সঙ্গে কাজ করেছেন রবার্ট পিনকাস এবং লরেঞ্জো পলভানি। গবেষকদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বায়ুমণ্ডলের সব স্তরে CO2 একইভাবে কাজ করে না। পৃথিবীর কাছাকাছি নিচের স্তরে এটি তাপ আটকে রাখে, ফলে ভূপৃষ্ঠ উষ্ণ হয়। কিন্তু ১১ থেকে ৫০ কিলোমিটার উপরের স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে CO2 উল্টোভাবে আচরণ করে। সেখানে এটি নীচ থেকে আসা অবলোহিত তাপ শোষণ করে মহাকাশে ছড়িয়ে দেয়। ফলে ওই স্তর ঠান্ডা হয়ে যায়। এই ধারণা প্রথম ১৯৬০-এর দশকে তুলে ধরেছিলেন জলবায়ুবিজ্ঞানী সিউকুরো মানাবে। পরে তিনি জলবায়ু মডেল গবেষণার জন্য নোবেল পুরস্কার পান। নতুন গবেষণায় বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, অবলোহিত আলোর সব তরঙ্গদৈর্ঘ্য সমানভাবে কাজ করে না। কিছু বিশেষ তরঙ্গদৈর্ঘ্য স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার ঠান্ডা করতে বেশি কার্যকর। গবেষকেরা এই অংশকে “গোল্ডিলক্স জোন” বলছেন। আর বায়ুমণ্ডলে CO2 যত বাড়ছে, এই কার্যকর অঞ্চলও তত বিস্তৃত হচ্ছে। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ওজোন বা জলীয় বাষ্পের প্রভাব থাকলেও স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার ঠান্ডা হওয়ার মূল কারণ CO2-ই। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই গবেষণা জলবায়ু পরিবর্তনের নতুন প্রমাণ নয়। বরং বহুদিন ধরে পরিচিত একটি ঘটনার ভিতরের পদার্থবিদ্যাকে আরও পরিষ্কারভাবে বোঝার চেষ্টা। তাঁদের আশা, এই ব্যাখ্যা ভবিষ্যতে আরও নিখুঁত জলবায়ু মডেল তৈরিতে সাহায্য করবে। এমনকি পৃথিবীর বাইরে অন্য গ্রহের বায়ুমণ্ডল বোঝার ক্ষেত্রেও এই গবেষণা কাজে লাগতে পারে।
সূত্র: www. earth .com / news/carbon-dioxide-cos-is-cooling-stratosphere-upper-atmosphere-while-warming-planet-surface
