টার্বাইন ব্লেড থেকে গামি বিয়ার লজেন্স!

টার্বাইন ব্লেড থেকে গামি বিয়ার লজেন্স!

অপ্রচিলত শক্তির উৎস হিসেবে উইন্ড টার্বাইন বা হাওয়াকলের ব্যবহার উন্নত দেশে ক্রমেই বাড়ছে। বেশির ভাগ মেশিনই পুনর্ব্যবহার করা সম্ভব। যদিও টার্বাইনের ফাইবারগ্লাসের তৈরি ব্লেডগুলোর কোনও উপায় এখনও করা যায়নি। বর্তমানে এই ব্লেডগুলোকে দুমড়ে মুচড়ে নানান রাসায়নিক উপায়ে নিম্নমানের দ্রব্য তৈরি হয়। কিন্তু সুস্বাদু সমাধান হতে পারে – টার্বাইন ব্লেড থেকে গামি বিয়ার লজেন্স বানানোর কথা ভাবছেন বিজ্ঞানীরা।
পুতুলের মতো দেখতে ছোট ছোট লবেঞ্জুস, তৈরি হয় জিলেটিন দিয়ে। তাদের নামই গামি বিয়ার। আমেরিকার মিচিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা গবেষক দল এমনই মজার পরীক্ষা করেছেন। ওনারা এক বিশেষ ধরণের রেজিন প্রস্তুত করেছেন যা থেকে টার্বাইন ব্লেড উৎপাদন করা যায়। আবার ব্যবহারের পর সেটাকে গলিয়ে শোধন করে প্লাস্টিক, আলো, ন্যাপি কিংবা মিষ্টি মুখরোচক খাবারও তৈরি করা সম্ভব। এমনটাই জানাচ্ছেন গবেষক দলের অন্যতম সদস্য ডক্টর জন ডোর্গ্যান।
মিথাইল মেথাক্রিলেটের মধ্যে যখন রেজিন দ্রবীভূত হয়, তা থেকে সহজেই গ্লাস ফাইবার আলাদা করে নেওয়া যায়। তারপর আবার ঐ উপাদানগুলোকে টার্বাইন তৈরির কাজে দিব্বি লাগানো চলে। অথবা সৃষ্ট পলিমারগুলো থেকে উচ্চমানের দ্রব্য যেমন রঙিন পাথর বা অ্যাক্রাইলিক জিনিসপত্র বানানো সম্ভব।
আবার ব্যবহারের পর বাড়তি রেজিন পটাশিয়াম ল্যাকটেটে পরিবর্তিত করতে পারলে তা থেকে নানান পানীয় বা গামি বিয়ারের মতো লজেন্সও উৎপাদন করা সম্ভব হবে। ডক্টর ডোর্গ্যান বলছেন, একই কার্বন অণু উদ্ভিদের দেহে থাকে, আবার ভুট্টাতে বা কাচের ভেতর যে কার্বন তার সাথে জীবাশ্ম জ্বালানীর মধ্যে থাকা কার্বন কণার কোনও ফারাক নেই। এই পরিব্যাপ্ত কার্বনচক্র থেকে জৈবসার যেমন তৈরি হয় তেমনই তৈরি হতে পারে খাবারদাবারও।