ডাকপিয়ন ‘মোবাইল রোবট’!

ডাকপিয়ন ‘মোবাইল রোবট’!

গ্রীসের ডাকব্যবস্থায় নতুন বিপ্লব! ৫৫টি চার চাকা যুক্ত ছোট্ট ‘মোবাইল রোবট’ আবিষ্কৃত হয়েছে। এথেন্সের হেলনিক পোস্ট অফিস থেকে তারা বিভিন্নদিকে বেরচ্ছে। তাদের সঙ্গে রয়েছে সমস্তরকমের পোস্টেজ। চিঠি, পার্সেল থেকে শুরু করে আরও অনেককিছু। যা গতবছরের আগের বছর পর্যন্ত মানুষের কাছে পৌঁছে দিতেন ডাকপিয়নরা। এখন সেই পার্সেল মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে ‘মোবাইল রোবট’! শুধু পৌঁছে দেওয়া নয়, তারা পার্সেল স্ক্যানও করতে পারছে, এমনকী, প্যাকেজ ওজন করতে পারছে! তারপর যথেষ্ট দ্রুত গতিতে নির্দিষ্ট ঠিকানায় চলে যাচ্ছে। যে ব্যক্তি বা যে অফিসে তারা নির্ধারিত জিনিস পৌঁছে দিচ্ছে সেখানেও একটি ছোট প্ল্যাটফর্ম করা থাকছে। তার ওপর রোবট মালপত্র রেখে আবার পোস্ট অফিসে ফিরছে। রোবটগুলি পরিচালিত আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের দ্বারা। এক একটি রোবট প্রত্যেকদিন ১৫ কেজি ওজনের ১ লক্ষ ৬৮ হাজার পার্সেল ডেলিভারি করতে পারে। শুধু রোবটগুলিকে রিচার্জ করতে হয়, প্রতি চার ঘন্টা অন্তর, পাঁচ মিনিটের জন্য।
গত বছর গোটা পৃথিবী কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হওয়ার পরই সরকারের অন্তর্ভূক্ত একটি বেসরকারি সংস্থা রোবটের মাধ্যমে পোস্টাল ব্যবস্থা চালু করার কথা ভাবে। হেলনিক পোস্ট অফিসের পোস্টমাস্টার জর্জ কনস্টান্টোপোলাস বলেছেন, “আগে পোস্ট অফিসের কর্মীরা হাতে যে কাজগুলি করত সেগুলো এখন রোবট করে। ভুল ভ্রান্তি অনেক কম হয়, ডেলিভারি করতে দেরি হয়ে যেত। রোবোটের সৌজন্যে সেগুলো আর হচ্ছে না। পার্সেল বাছাইয়ের কাজের ৮০ শতাংশ এখন রোবট করে।”
কিন্তু হেলনিক পোস্টঅফিসের নতুন এই বিপ্লবে আরও মানুষ কর্মহীন হয়ে যাবে তো? পোস্টমাস্টার বলছেন, “প্রশ্নই নেই। রোবট তো একটা যন্ত্র। কাজ করতে করতে যন্ত্রেও তো জং ধরে। তারও পার্টস খারাপ হয়। সেগুলো যাতে না হয় সেই কাজ করবে মানুষ!”