পরিবেশে কি ধরনের রাসায়নিক দূষণ ছড়িয়ে পড়ছে, তা জানার জন্য বিজ্ঞানীরা সাধারণত জীবিত প্রাণীর রক্ত বা কোষকলার নমুনা পরীক্ষা করেন। তবে স্পেনের একদল গবেষক দেখিয়েছেন, পাখির ডিমও হতে পারে দূষণের গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য। বিশেষ করে, যে সকল ডিম ফুটতে ব্যর্থ। ২০১৪ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ১৪টি বন্য পাখি প্রজাতির অনিষিক্ত বা ফুটতে না-পারা ডিম সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করেন গবেষকেরা। তাতে বহু বছর আগে নিষিদ্ধ হওয়া ডিডিটি-র অবশিষ্টাংশ, পাশাপাশি বর্তমানে ব্যবহৃত বিভিন্ন কীটনাশক ও ছত্রাকনাশকের চিহ্নও পাওয়া গেছে। গবেষকদের মতে, একটি ডিম আসলে মা-পাখির শরীরে জমে থাকা রাসায়নিকের প্রতিফলন। ফলে ডিম পরীক্ষা করে বোঝা যায়, পরিবেশে কী ধরনের দূষক ঘুরে বেড়াচ্ছে। এই পদ্ধতিকে বলা হয় ‘বায়োমনিটরিং’। বিশেষ উদ্বেগের বিষয়, ১৯৭০-এর দশকে নিষিদ্ধ হওয়া ডিডিটির চিহ্ন এখনও পাখির ডিমে পাওয়া যাচ্ছে। এই রাসায়নিক মাটি ও জলে দীর্ঘদিন থেকে যায় এবং খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে প্রাণীদের শরীরে জমা হতে থাকে। এর ফলে ডিমের খোলস পাতলা হয়ে ভ্রূণের মৃত্যুঝুঁকি বাড়তে পারে। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, অনেক ডিমে একসঙ্গে একাধিক দূষক উপস্থিত ছিল। পুরনো ও নতুন রাসায়নিকের এই মিশ্রণের প্রভাবের বিষয়টি এখনও পুরোপুরি জানা যায়নি। কিন্তু বিজ্ঞানীরা সতর্ক করছেন যে কম মাত্রার দূষকও ক্ষতিকর হতে পারে। কারণ এদের অনেকেই হরমোনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করে। বিশেষ করে শিকারি পাখিদের ডিমে দূষকের মাত্রা বেশি পাওয়া গেছে। খাদ্যশৃঙ্খলের শীর্ষে থাকার কারণে বিভিন্ন প্রাণীর শরীর থেকে জমা হওয়া রাসায়নিক শেষ পর্যন্ত তাদের শরীরে কেন্দ্রীভূত হয়। এই ফলাফল শুধু পাখি সংরক্ষণ নয়, মানুষের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একই রাসায়নিক পানীয় জল ও খাদ্যশস্যের মাধ্যমেও মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে। তাই ফুটতে ব্যর্থ ডিম পরিবেশ দূষণ শনাক্ত করার একটি কার্যকর ‘আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম’ হিসেবে কাজ করতে পারে। ভবিষ্যতে গবেষকেরা এই ডিমগুলিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতিও খতিয়ে দেখতে চান।
সূত্র: Earth . com ; June ; 2026
