প্রকৃতি রক্ষায় যাযাবর পশুপালকদের ভূমিকা 

প্রকৃতি রক্ষায় যাযাবর পশুপালকদের ভূমিকা 

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ১২ জুন, ২০২৬

পাহাড়ি পশুপালকরা যে প্রকৃতির জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা তুলে ধরেছে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সাম্প্রতিক নীতি-প্রতিবেদন। গবেষণাটি বলছে, জম্মু ও কাশ্মীরের মৌসুমি যাযাবর পশুপালকরা বছরে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার সমমূল্যের পরিবেশগত সেবা প্রদান করেন।

জম্মু ও কাশ্মীরের প্রায় ৬ লক্ষ ‘ট্রান্সহিউম্যান্ট’ পশুপালক বছরে দু’বার দীর্ঘ যাত্রা করেন। গ্রীষ্মে তারা পশুর পাল নিয়ে পাহাড়ের উঁচু তৃণভূমিতে যান, শীতে আবার ফিরে আসেন। প্রায় ৬০০ কিলোমিটারের এই যাত্রা সম্পূর্ণ করতে ৩০ থেকে ৪৫ দিন সময় লাগে। গবেষণায় দেখা গেছে, এই যাযাবর জীবনধারা পাহাড়ি বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এক জায়গায় সারাবছর পশু না চরিয়ে মৌসুমভিত্তিক স্থান পরিবর্তনের ফলে তৃণভূমি পুনরুজ্জীবিত হওয়ার সুযোগ পায়। একই সঙ্গে যাত্রাপথে শুকনো পাইনপাতা ও ঝোপঝাড় সরিয়ে যাওয়ায় দাবানলের ঝুঁকিও কমে। গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, এর ফলে বছরে ৭,০০০ থেকে ১২,০০০ হেক্টর জমিতে অগ্নিকাণ্ডের সম্ভাবনা হ্রাস পায়। পশুদের চলাচল মাটির জলধারণ ক্ষমতাও বাড়ায়। ফলে বৃষ্টির জল মাটির গভীরে প্রবেশ করে, মাটিক্ষয় কমে এবং ভূমিধসের ঝুঁকি হ্রাস পায়। পাশাপাশি পশুর মল মাটির উর্বরতা বাড়াতে এবং বীজ ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করে। শুধু এই তিনটি সেবার আর্থিক মূল্যই প্রায় ৫,৮৮০ কোটি টাকা বলে হিসাব করা হয়েছে। তবে গবেষকদের মতে, এঁদের প্রকৃত অবদান এর চেয়েও অনেক বেশি। কার্বন শোষণ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, ঔষধি উদ্ভিদ সম্পর্কে ঐতিহ্যগত জ্ঞান এবং গুজ্জর, বকরওয়াল, গাড্ডি ও সিপ্পি সম্প্রদায়ের ভাষা-সংস্কৃতি রক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির মূল্য এই হিসাবের মধ্যে ধরা হয়নি। বিরোধাভাস হলো, যারা প্রকৃতিকে এত বড় সেবা দিচ্ছেন, তারাই শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, পানীয় জল ও পশুচিকিৎসার মতো মৌলিক পরিষেবা থেকে প্রায়শই বঞ্চিত। তাই গবেষণাটি বলছে, এই পশুপালকদের শুধু সরকারি সহায়তার প্রাপক হিসেবে নয়, পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ সেবাদাতা হিসেবেও স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। জাতিসংঘ ২০২৬ সালকে ‘আন্তর্জাতিক রেঞ্জল্যান্ড ও পশুপালক বর্ষ’ ঘোষণা করেছে। ফলে এই বছরটি হতে পারে সেই মানুষগুলিকে নতুনভাবে দেখার সুযোগ, যারা শুধু পশু চরান না, বরং পাহাড় ও প্রকৃতির নীরব রক্ষক হিসেবেও কাজ করেন।

 

সূত্র: Down to Earth ; May; 2026

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

five × 1 =