মানুষের রক্তে হিমোগ্লোবিন আর উদ্ভিদের পাতায় ক্লোরোফিল , কাজে তারা সম্পূর্ণ ভিন্ন ঠিকই, কিন্তু তাদের আণবিক কাঠামোর মধ্যে রয়েছে ঘনিষ্ঠ মিল। হিমোগ্লোবিন আমাদের শরীরে অক্সিজেন পৌঁছে দেয়, আর ক্লোরোফিল সূর্যের আলোকে ধারণ করে সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে শক্তি তৈরিতে সাহায্য করে।
দুটি অণুর গুরুত্বপূর্ণ অংশের কেন্দ্রে রয়েছে একটি বৃহৎ চক্রাকার জৈব কাঠামো। হিমোগ্লোবিনের হিম অংশে থাকে পোরফিরিন রিং, আর ক্লোরোফিলে থাকে এর কাছাকাছি গঠনের ক্লোরিন রিং। এই রিং তৈরি হয় মূলত চারটি পাইরোল উপএকক পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে। রিংটির কেন্দ্রে চারটি নাইট্রোজেন পরমাণু একটি ধাতব আয়নকে ধরে রাখে।
হিমোগ্লোবিনের হিম অংশে সেই ধাতু হলো লোহা (Fe)। এই লোহা অক্সিজেনের সঙ্গে সাময়িকভাবে যুক্ত হতে পারে। ফলে হিমোগ্লোবিন ফুসফুস থেকে অক্সিজেন নিয়ে শরীরের বিভিন্ন কোষকলায় পৌঁছে দেয়।
অন্যদিকে, ক্লোরোফিলের কেন্দ্রে রয়েছে ম্যাগনেসিয়াম (Mg)। এটি আলো শোষণ এবং সালোকসংশ্লেষণের সময় ইলেকট্রন স্থানান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তবে গঠনগত মিল থাকলেও ক্লোরোফিল হিম-এর হুবহু অনুরূপ নয়। এতে সামান্য রাসায়নিক পরিবর্তন রয়েছে । ক্লোরোফিলের রিংয়ে একটি হ্রাসপ্রাপ্ত দ্বিবন্ধন রয়েছে এবং এর সঙ্গে যুক্ত থাকে অতিরিক্ত কিছু পার্শ্বশৃঙ্খল। এর মধ্যে একটি দীর্ঘ ফাইটল টেল/ ক্লোরোফিল অণুর অবিচ্ছেদ্য অংশ থাকে, যা ক্লোরোফিলকে কোষের ঝিল্লিতে স্থিত হতে সাহায্য করে।
অর্থাৎ, একই ধরনের মৌলিক আণবিক নকশা কিন্তু ভিন্ন ধাতু, সামান্য ভিন্ন গঠন এবং ভিন্ন জৈবিক পরিবেশ দিয়ে প্রকৃতি তৈরি করেছে দুটি সম্পূর্ণ আলাদা ব্যবস্থা।
একটি সূর্যের আলোকে জৈবনিক শক্তিতে রূপান্তর করে, অন্যটি সেই জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন পরিবহন করে। অর্থাৎ কিনা, একটি সফল আণবিক নকশাকে সামান্য পরিবর্তন করেই সম্পূর্ণ নতুন কাজ করানো সম্ভব।
সূত্র: Alberts, B. et al. Molecular Biology of the Cell. Garland Science.
