ফুকুশিমার ধ্বংসাবশেষ উদ্ধারে রোবট

ফুকুশিমার ধ্বংসাবশেষ উদ্ধারে রোবট

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ৩০ অক্টোবর, ২০২৬

জাপানের ফুকুশিমা দাইইচি পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে গলে যাওয়া তেজস্ক্রিয় জ্বালানির ধ্বংসাবশেষ উদ্ধারে নামানো হয়েছে ২২ মিটার লম্বা, ৪.৬ টন ওজনের এক বিশেষ রোবটিক হাত। মানুষের পক্ষে যেখানে পৌঁছনো অত্যন্ত বিপজ্জনক, সেখানে সরু পথ দিয়ে ঢুকে কাজ করবে এই যন্ত্র।

২০২৬ সালের ২ অক্টোবর রিঅ্যাক্টর ইউনিট ২-এর সুরক্ষিত আবরণের ভিতরে ঢোকার কাজ শুরু করেছে রোবটটি। মাত্র ২২ ইঞ্চি চওড়া প্রবেশপথ দিয়ে ভাঁজ খেয়ে ভিতরে ঢুকতে পারে এটি। ধ্বংসাবশেষ সংগ্রহের আগে উচ্চচাপের জলধারা দিয়ে পথের বাধা হয়ে থাকা ইস্পাতের রেল কাটবে যন্ত্রটি। পাশাপাশি, রিঅ্যাক্টরের ভিতরের ত্রিমাত্রিক মানচিত্রও তৈরি করবে। এর আগে ২০২৪ ও ২০২৫ সালের পরীক্ষামূলক অভিযানে সব মিলিয়ে মাত্র ০.৯ গ্রাম জ্বালানির ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল। অথচ তিনটি ক্ষতিগ্রস্ত রিঅ্যাক্টরে এখনও রয়ে গিয়েছে আনুমানিক ৮৮০ টন গলিত জ্বালানির ধ্বংসাবশেষ। নতুন রোবটটির লক্ষ্য, বিপজ্জনক এলাকায় পৌঁছে নমুনা সংগ্রহের পথ সহজ করা এবং ধ্বংসাবশেষের প্রকৃতি সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের আরও স্পষ্ট ধারণা দেওয়া। গোটা অভিযান শেষ হতে প্রায় ছয় মাস লাগতে পারে। পরবর্তী নমুনা উদ্ধারের চেষ্টা ২০২৭ সালে হওয়ার কথা। এই তথ্যের ভিত্তিতে জাপান দীর্ঘমেয়াদি নিষ্ক্রিয়করণ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পরিকল্পনা এগিয়ে নিয়ে যেতে চায়। তবে বিপুল পরিমাণ তেজস্ক্রিয় পদার্থ নিরাপদে সরানোর প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ এখনও বিশাল। লক্ষ্য হল, ফুকুশিমা কেন্দ্রকে ২০৫১ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় করা।

 

সূত্র: The Japan Times

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

two + nineteen =