উত্তরবঙ্গের বক্সা টাইগার রিজার্ভে ফেরানো হল বাঘিনী। বিহারের বাল্মীকি টাইগার রিজার্ভ ছিল এটির পূর্ব বসতি। বয়স তিনের কিছু বেশি। প্রায় আট বছর বক্সার রিজার্ভটি বাঘশূন্য থাকার পর, এটি সেখানে বাঘ ফিরিয়ে আনতে প্রথম বড় পদক্ষেপ। তবে সরাসরি জঙ্গলে নয়, প্রথমে তাকে ২.৩ হেক্টরের ঘেরাটোপে ‘সফট রিলিজ’ করা হয়। যাতে নতুন পরিবেশের সঙ্গে সে ধীরে ধীরে মানিয়ে নিতে পারে। রেডিয়ো কলার ও ক্যামেরা ট্র্যাপে চলবে নজরদারি। পরে ধাপে ধাপে আরও বাঘ এনে গড়ে তোলা হবে স্থায়ী, স্বনির্ভর বাঘের জনবসতি। কিন্তু প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছে, বক্সার জঙ্গল কি সত্যিই বাঘেদের জন্য প্রস্তুত? বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, শুধু বাঘ এনে ছাড়লেই হবে না। চাই পর্যাপ্ত শিকার, ভালো আবাসস্থল, কম মানবচলাচল এবং স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা। বক্সার কোর এলাকায় এখনও ১১টি গ্রাম রয়েছে। ফলে বাঘ-মানুষের সংঘাতের আশঙ্কাও থাকছে। বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞ কিউমার কুরেশি তাড়াহুড়ো না করার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর মতে, “সারিস্কায় বাঘ ফেরানোর আগে শিকার ও আবাসস্থল প্রস্তুত করা হয়েছিল, কিন্তু সাতকোসিয়ায় সেই প্রস্তুতির ঘাটতি প্রকল্পকে সমস্যায় ফেলেছিল”। অন্যদিকে ভারতীয় বন্যপ্রাণী প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন অধিকর্তা ওয়াইভি ঝালা বক্সাকে সম্ভাবনাময় এলাকা মনে করলেও আবাসস্থল ব্যবস্থাপনায় জোর দিয়েছেন। এদিকে গ্রাম পুনর্বাসনের কাজও চলছে। ইতিমধ্যে দুটি গ্রামের বাসিন্দাদের সরানো হয়েছে, তৃতীয়টির পুনর্বাসন চলছে। কারণ, বাঘের জন্য শুধু জঙ্গল নয়, নিরাপদ জঙ্গল দরকার। আর সেই জঙ্গলের আশপাশে থাকা মানুষের নিরাপত্তাও সমান জরুরি। বক্সায় তাই বাঘ ফিরেছে ঠিকই। এখন দেখার, এই জঙ্গল তার নতুন ঘর হয়ে উঠতে পারে কি না !
সূত্র: Down to Earth; October 2026
