জন্মবধির মানুষের মস্তিষ্ক কীভাবে কাজ বদলে নেয়, তা নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, কোনও ইন্দ্রিয় কাজ না করলে, মস্তিষ্ক যে কেবল অন্য অংশকে বেশি সক্রিয় করে তাই নয়, কিছু অংশকে কম সক্রিয় করেও নতুনভাবে তথ্য প্রক্রিয়াকরণ শিখে ফেলে। এই ক্ষমতাকে বলা হয় নিউরোপ্লাস্টিসিটি। অর্থাৎ পরিস্থিতি অনুযায়ী মস্তিষ্ক নিজেকে বদলে নিতে পারে। আগে জানা গিয়েছিল, বধির মানুষের মস্তিষ্কের শ্রবণকেন্দ্র দৃশ্যমান তথ্য গ্রহণে সাহায্য করতে পারে। তবে সেই প্রক্রিয়া ঠিক কীভাবে ঘটে, তা স্পষ্ট ছিল না। এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে আলেসিও ফ্রাকাসো ও তাঁর সহকর্মীরা জন্মবধির এবং স্বাভাবিক শ্রবণক্ষম তরুণদের উপর পরীক্ষা চালান। অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন দৃশ্যমান নকশা দেখিয়ে ফাংশনাল এমআরআই-এর মাধ্যমে মস্তিষ্কের কার্যকলাপ দেখা হয়। শ্রবণক্ষমদের ক্ষেত্রে দৃষ্টিকেন্দ্র সক্রিয় হলেও শ্রবণকেন্দ্রে তেমন পরিবর্তন ছিল না। কিন্তু বধিরদের ক্ষেত্রে দেখা যায়, দৃশ্যমান উদ্দীপনা দেখালে শ্রবণকেন্দ্রের কার্যকলাপ বরং কমে যায়। এটি কোনও এলোমেলো ঘটনা নয়। এই “কম সক্রিয় হওয়া” নির্দিষ্ট নিয়মে ঘটছে এবং তা দৃশ্যমান তথ্যের অবস্থান বুঝতে সাহায্য করছে। এই পরিবর্তন বিশেষ করে চোখের বিপরীত পাশের দৃশ্য, কেন্দ্রীয় দৃষ্টি এবং বড় এলাকা জুড়ে থাকা বস্তুর অবস্থান বুঝতে সাহায্য করছে। অর্থাৎ আগে যে অংশ শব্দ বোঝার কাজ করত, এখন সেটি চোখে দেখা জগতের তথ্যও ধরছে। আগে যে অংশ শব্দ বোঝার কাজ করত, এখন সেটি দৃশ্যমান জগতের অবস্থান সম্পর্কিত তথ্যও ধরতে পারছে। এতদিন মনে করা হত, একটি ইন্দ্রিয় হারালে অন্য ইন্দ্রিয়ের জন্য মস্তিষ্কের কোনো অংশ বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, কখনও কখনও কম সক্রিয় হওয়াও নতুন কাজ শেখার অংশ হতে পারে। এটি মনোযোগ বাড়ানো বা অপ্রয়োজনীয় তথ্য বাদ দিতেও সাহায্য করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের আশা, এই গবেষণা ভবিষ্যতে চিকিৎসায় নতুন দিশা দেখাবে।
সূত্র : NeuroScience; April, 2026
