বরফের দেশে সবুজ বিপ্লব!

বরফের দেশে সবুজ বিপ্লব!

অ্যান্টার্কটিকাও ধনধান্যে পুস্পে ভরা হতে চলেছে! বরফের সাম্রাজ্যে হরেক রকমের ফসলের রং! পুরু বরফের চাদরে ঢাকা অ্যান্টার্কটিকায় দেখা গিয়েছে উপচে পড়া ফসল! নানাধরণের, টম্যাটো, লঙ্কা, বিট, শসা, ব্রকোলি, ফুলকপি, লেটুসপাতা, একধরণের বাঁধাকপি, এমনকী মশলাপাতিও হচ্ছে! প্রায় অসম্ভব এই কাজকে বাস্তবায়িত করেছে জার্মান এরোস্পেস সেন্টার। সংক্ষেপে যাদের বলা হয় ডিএলআর। এই সংস্থা অ্যান্টার্কটিকায় একটি কৃত্রিম ক্ষেত তৈরি করেছে দেশের পূর্বে এক্সট্রম আইস শেলফের ওপর। ক্ষেতের নাম ‘ইডেন আইএসএস’। তার কাছেই জার্মানির গবেষণা শিবির নওমেয়্যার স্টেশন। আশ্চর্যের বিষয়, এই অঞ্চলে কিন্তু একফোঁটাও সুর্যের আলো প্রবেশ করে না। ঢোকে না মানে, ৬ মাস অন্ধকার থাকার পর অ্যান্টার্কটিকা যখন সুর্যের মুখ দেখে, সেই সময়ও এক্সট্রস আইস শেলফে সুর্যের আলো ঢোকে না। তার মধ্যেও এত ফসল কীভাবে ফলালেন বিজ্ঞানীরা? কৃত্রিম ক্ষেতে নানাকমের আলো ব্যবহার করা হল। যে ফসলের জন্য যে আলো প্রয়োজন। এরপর অভিনব এক পদ্ধতির আশ্রয় নিয়েছেন বিজ্ঞানীরা যার বৈজ্ঞানিক নাম এরোপোনিক্স। এই পদ্ধতিতে নান পুষ্টিকর খ্যাদ্যের দ্রবণ (নিউট্রিয়েন্টস) স্প্রে করে বিভিন্ন শষ্য, আনাজপাতির গাছের মূলে। কৃত্রিম ক্ষেতে যে গাছগুলি ওপর থেকে ঝুলছে সেই গাছগুলোর মূলে। ডিএলআর জানিয়েছে, অ্যান্টার্কটিকায় কৃত্রিম ক্ষেতে তাদের ফসল ফলানোর পরীক্ষা আসলে চাঁদ বা মঙ্গলের মত অন্য কোনও গ্রহেও এই পদ্ধতিতে ফসল ফলানো যাবে কি না দেখার জন্য। এখানে সফল হয়ে উচ্ছ্বসিত ডিএলআরের বিজ্ঞানীরা। আবার চাঁদে বাজিমাত করার অপেক্ষা!