সংলাপের সময় আমরা কথা বলার আগে মস্তিষ্কে শুরু হয়ে যায় এক বিস্ময়কর প্রস্তুতি। এক সেকেন্ডেরও কম সময়ে মস্তিষ্ক ভাষার অর্থ, ব্যাকরণ ও উপযুক্ত শব্দগুলিকে একসূত্রে গেঁথে ফেলে। সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা স্বতঃস্ফূর্ত কথোপকথনের সময় একক নিউরনের বৈদ্যুতিক সংকেত পর্যবেক্ষণ করেছেন। দেখা গেছে, মুখ থেকে শব্দ বেরোনোর আগে মস্তিষ্কে বাক্য গঠনের কাজ শুরু হয়ে যায়। গবেষকেরা দেখতে পান মানবমস্তিষ্কের ফ্রন্টোটেম্পোরাল কর্টেক্স অঞ্চলে,সব নিউরন একই কাজ করে না। কোনোটি শব্দের অর্থ নিয়ে কাজ করে, কোনোটি ব্যাকরণের দিকটা দেখে, আবার কেউ বাক্যের সমাপ্তির সংকেত শনাক্ত করে। অর্থাৎ ভাষা তৈরির ক্ষেত্রে প্রতিটি নিউরন যেন আলাদা আলাদা নির্মাণ-ইটের মতো বিশেষায়িত ভূমিকা পালন করে। ‘আমরা ভাবতাম ভাষা হল এই গোটা নেটওয়ার্ক জুড়ে ছড়ানো একটা কাণ্ড। কিন্তু এখন জানা যাচ্ছে, নির্দিষ্ট কাজের জন্য আছে নির্দিষ্ট নিউরন। তারা খেয়াল রাখে, কোনটা বিশেষ্য, কোন শব্দবন্ধ কোথায় শেষ হবে।’ বলেছেন ম্যাসাচুসেটস হাসপাতালের নিউরো সার্জন জিভ উইলিয়ামস। মৃগীরোগের চিকিৎসার অংশ হিসেবে মস্তিষ্কে সাময়িকভাবে বসানো সূক্ষ্ম ইলেকট্রোডের সাহায্যে এই গবেষণা সম্ভব হয়েছে। এর ফলে বিজ্ঞানীরা এমন সূক্ষ্ম বৈদ্যুতিক কার্যকলাপ দেখতে পেরেছেন, যা প্রচলিত ব্রেন-স্ক্যান প্রযুক্তি ধরতে পারে না। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ভাষা প্রক্রিয়াকরণে মস্তিষ্কের বাম গোলার্ধ তুলনামূলকভাবে বেশি সক্রিয়। নতুন এই আবিষ্কার ভাষাঘটিত স্নায়ুরোগ ও বাকপ্রতিবন্ধকতার চিকিৎসা, এমনকি মস্তিষ্ক-অনুপ্রাণিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে এটি মানব মস্তিষ্ক ও আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মধ্যে কিছু চমকপ্রদ সাদৃশ্যের দিকেও নতুন করে আলোকপাত করেছে।
সূত্র: Nature June 2026
