বিছের অস্ত্র বলতে আমরা সাধারণত বুঝি দুই শক্তিশালী নখর আর উপর দিকে বাঁকানো বিষাক্ত হুল। এই অস্ত্রগুলোর ভেতরে লুকিয়ে আছে ধাতব শক্তি। সদ্য প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, বিছের অস্ত্রে জিঙ্ক, ম্যাঙ্গানিজ ও আয়রন প্রভৃতি ধাতু থাকে, যা এগুলোকে আরও শক্ত ও টেকসই করে তোলে। গবেষকদের মতে, এই ধাতুগুলো অনেকটা কংক্রিটে লোহার রডের মতো কাজ করে। যদিও এই ধাতু ঠিক কোথা থেকে আসে তা পুরোপুরি স্পষ্ট নয়, তবে ধারণা করা হয়, বিছের খাদ্য থেকেই এগুলো জমা হয়। স্যাম ক্যাম্পবেল ও তাঁর দল যুক্তরাষ্ট্রের স্মিথসোনিয়ান ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রি-তে সংরক্ষিত শতবর্ষ পুরোনো বিছের নমুনা নিয়ে কাজ করেন। প্রায় ১৮টি ভিন্ন প্রজাতির বিছের নখর ও হুল আলাদা করে বিশেষ এক্স-রে প্রযুক্তির মাধ্যমে ধাতুর উপস্থিতি বিশ্লেষণ করা হয়। ফলাফল চমকপ্রদ। দেখা যায়, যেখানে নখরে বেশি জিঙ্ক থাকে, সেখানে হুলে থাকে কম। আবার উল্টোও সত্যি। অর্থাৎ, এক ধরনের ‘বণ্টন ভারসাম্য’ কাজ করে। ধাতুর এই বণ্টনই নির্ধারণ করে বিছের শিকার করার কৌশল। এরা সাধারণত দুইভাবে শিকার ধরে। এক, শক্ত নখর দিয়ে চেপে মেরে ফেলা। দুই, হুলের বিষ দিয়ে শিকারকে অচেতন করা। যাদের নখর বড় ও শক্তিশালী, তারা সাধারণত শিকারকে চেপে মেরে ফেলে এবং হুল কম ব্যবহার করে। আর যাদের নখর সরু ও অপেক্ষাকৃত দুর্বল, তারা শিকারকে ধরে রেখে হুল দিয়ে বিষ প্রয়োগ করে। গবেষকদের ধারণা ছিল, বড় ও শক্তিশালী নখরেই বেশি ধাতু থাকবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, সরু ও দুর্বল নখরেই সবচেয়ে বেশি জিঙ্ক থাকে। জৈব উপাদান বিশেষজ্ঞ ইয়ায়েল পলিতি মনে করেন, এই ধাতু আসলে দুর্বল গঠনেরই ক্ষতিপূরণ স্বরূপ। অর্থাৎ, জিঙ্ক নখরকে আরও টেকসই করে তোলে, যাতে বারবার ব্যবহারে ক্ষয় না হয়। এখানেই বিবর্তনের বুদ্ধিমত্তা স্পষ্ট হয়। একটি বিছে জীবনে কয়েকবার তার বাইরের খোলস বদলায়। কিন্তু একবার পূর্ণবয়স্ক হয়ে গেলে, সেই খোল আর নতুন করে তৈরি হয় না। ফলে নখর বা হুল ভেঙে গেলে সে ক্ষতি স্থায়ী হয়ে যায়। তাই বিবর্তন এমনভাবে ধাতুর ব্যবহার গড়ে তুলেছে, যাতে যে অস্ত্রটি বেশি ব্যবহৃত হয়, সেটিই সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী ও সুরক্ষিত থাকে।
সূত্র: Science; April, 2026.
