জার্মানির মধ্যাঞ্চলের কিফহয়জার পর্বতমালায় পাওয়া গিয়েছিল একটি গাছ। সেটি পাথরে পরিণত । তার জীবাশ্মে লুকিয়ে রয়েছে পৃথিবীর প্রায় ২০ কোটি বছরের ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ধরনের জীবাশ্ম মহাদেশের বিবর্তন বোঝার নতুন জানালা খুলে দিতে পারে। প্রায় ৩০ কোটি বছর আগে, এই অঞ্চল ছিল সুপারকন্টিনেন্ট ‘প্যাঞ্জিয়া’-র নিরক্ষীয় অংশ। ঘন বনভূমিতে বেড়ে ওঠা আদিম এই শঙ্কুজাতীয় গাছ বন্যার জলে ভেসে নদীর পলির নিচে চাপা পড়ে। পরে আগ্নেয় ছাই থেকে নির্গত সিলিকা ধীরে ধীরে কাঠের কোষে জমে কাঠকে পাথরে পরিণত করে। ইউনিভার্সিটি অব মুনস্টার-এর ভূতত্ত্ববিদ , ড. স্টেফেন ট্রুম্পার-এর নেতৃত্বে গবেষকরা দেখেন, এই রূপান্তর একচোটে ঘটেনি। প্রায় ২০ কোটি বছর ধরে পাঁচটি ধাপে কোয়ার্টজের নতুন নতুন স্তর তৈরি হয়েছে। প্রতিটি স্তর সেই সময়ের তাপমাত্রা, চাপ ও ভূগর্ভস্থ জলের রাসায়নিক বৈশিষ্ট্যের তথ্য ধরে রেখেছে। জীবাশ্মের ভেতরে আটকে থাকা ক্ষুদ্র জলের ফোঁটা বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন, গাছের গুঁড়িগুলি একসময় ৩ থেকে ৫.৫ কিলোমিটার গভীরে নেমে গিয়েছিল। সেখানে তাপমাত্রা পৌঁছেছিল ১৬০ থেকে ২৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। পরে ভূত্বকের পরিবর্তনের ফলে সেগুলি আবার ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি উঠে আসে। কোনও অশ্মীভূত কাঠে এত দীর্ঘ সময়ের পাঁচ ধাপের খনিজায়নের প্রমাণ আগে পাওয়া যায়নি। তাই এই জীবাশ্ম শুধু একটি প্রাচীন গাছের নিদর্শন নয়, এটি একটি অঞ্চলের ভূতাত্ত্বিক বিবর্তনের নির্ভরযোগ্য নথি। ড. ট্রুম্পারের কথায়, “হাতের তালুর সমান একটি জীবাশ্মও শত শত মিলিয়ন বছরের ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস ধারণ করে রাখতে পারে।” তাঁর মতে, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পাওয়া পাথরে পরিণত কাঠ ভবিষ্যতে মহাদেশের গঠন ও বিবর্তন নিয়ে গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
সূত্র: Scientific Reports ; Earth . com ; July ; 2026
