বৃহস্পতির আকার ও আয়তন 

বৃহস্পতির আকার ও আয়তন 

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ১৮ মে, ২০২৬

সৌরজগতের সবচেয়ে বড় গ্রহ বৃহস্পতিকে আমরা বহুদিন ধরেই এক বিশাল গ্যাসের গোলক হিসেবে চিনি। কিন্তু নতুন গবেষণা বলছে, বৃহস্পতি আসলে আগে যা ভাবা গিয়েছিল তার তুলনায় একটু বেশি চ্যাপ্টা এবং সামান্য ছোট। শুনতে পরিবর্তনটা খুব ছোট মনে হলেও, বিজ্ঞানীদের কাছে এর গুরুত্ব অনেক। এই নতুন তথ্য এসেছে জুনো মিশন মহাকাশযানের পর্যবেক্ষণ থেকে। ২০১৬ সাল থেকে বৃহস্পতির চারপাশে ঘুরতে থাকা এই মহাকাশ যানটি ওই গ্রহের বায়ুমণ্ডল ও অভ্যন্তরীণ গঠন নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে চলেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, বৃহস্পতির বিষুবীয় ব্যাস আগের হিসাবের তুলনায় প্রায় ৮ কিলোমিটার কম এবং এক মেরু থেকে অন্য মেরুর দূরত্ব প্রায় ২৪ কিলোমিটার কম। অর্থাৎ গ্রহটি আগের ধারণার তুলনায় একটু চ্যাপ্টা। বিজ্ঞানীরা জুনোর পাঠানো রেডিও সংকেত বিশ্লেষণ করে এই মাপ পেয়েছেন। বৃহস্পতির বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় সংকেত সামান্য বেঁকে যায়, আর সেই পরিবর্তন থেকেই গ্রহটির প্রকৃত আকৃতি আরও নিখুঁতভাবে বোঝা সম্ভব হয়েছে। গবেষণার সঙ্গে যুক্ত এলি গ্যালান্টি জানিয়েছেন, আগের হিসাবগুলিতে বৃহস্পতির প্রবল বায়ুপ্রবাহের প্রভাব পুরোপুরি ধরা হয়নি। সেই দ্রুতগতির হাওয়াই গ্রহটির বাইরের আকৃতি বদলে দেয়। বৃহস্পতি মূলত হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে তৈরি এক “গ্যাস দানব’’। তাই এর কোনও শক্ত জমি নেই। বিজ্ঞানীরা নির্দিষ্ট বায়ুচাপের স্তরকে গ্রহটির সীমানা ধরে মাপজোখ করেন। এই সামান্য পরিবর্তনও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বৃহস্পতির আকারের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে তার ঘনত্ব, তাপমাত্রা, মাধ্যাকর্ষণ ও অভ্যন্তরীণ গঠনের হিসাব। নতুন এই তথ্য নাসা-র পুরনো গ্যালেলিও প্রোব এবং ভয়েজার মিশনের পর্যবেক্ষণের সঙ্গেও আরও ভালোভাবে মিলছে। এখন বিজ্ঞানীদের আশা, ভবিষ্যতের জুপিটার আইসি মুনস এক্সপ্লোরার বা ‘জুস মিশন’ বৃহস্পতির আরও গভীর স্তর সম্পর্কে নতুন তথ্য দেবে। হয়তো আগামী কয়েক বছরে আমরা জানতে পারব, এই বিশাল গ্যাস গ্রহটির ভেতরে আসলে কী লুকিয়ে আছে।

 

সূত্র: Nature Astronomy ; 2026

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

fourteen − 3 =