ব্যাঙ গায়েব হলে অসুখ বাঁধবে মানুষের

ব্যাঙ গায়েব হলে অসুখ বাঁধবে মানুষের

২০২০ সালের কোভিড মহামারি চোখ আমাদের অনেকটাই খুলে দিয়েছে। মানুষের ভালোভাবে বেঁচে থাকা যে অন্য প্রজাতির অস্তিত্বের সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত, সেটা ঠেকে শিখছি আমরা। আজকের দিনে দাঁড়িয়ে প্রধানত পাখী আর স্তন্যপায়ীদের সংরক্ষণের কথাই ভাবা হয়। কিন্তু উভচর প্রাণীদের দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া ভয়ঙ্কর পরিণাম ডেকে আনতে পারে।

এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ লেটার্স নামক পত্রিকায় সম্প্রতি বেরিয়েছে এক গবেষণার ফল। দেখা যাচ্ছে ব্যাঙ আর ম্যালেরিয়ার মধ্যে সম্পর্ক আছে। অর্থাৎ, ব্যাঙের মতো খুদে প্রাণীর থাকা না-থাকায় মানুষের স্বাস্থ্য প্রভাবিত হতেই পারে।

১৯৮০ সাল নাগাদ কোস্টা রিকা আর পানামা অঞ্চলে উভচরদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে কমতে শুরু করেছিল। একটা বিষাক্ত ছত্রাকের কবলে পড়ে ব্যাঙ আর স্যালামান্ডারের বংশ লোপ পেতে শুরু করে পৃথিবীর এই অংশে। ছত্রাকটার ল্যাটিন নাম ব্যাট্রাকোকাইট্রিয়াম ডেন্ড্রোব্যাটিডিস। কোনও কোনও বিজ্ঞানীর মতে, জীবজগতের এত বড়ো ক্ষতি একবারে কখনই হয়নি এমন। কম করে ৫০১টা প্রজাতির উভচরের সংখ্যা তলানিতে ঠেকে, ৯০টা প্রজাতি বিলুপ্ত হয়েছিল।

উভচরদের মধ্যে ব্যাঙ আর স্যালামান্ডারের প্রধান খাদ্য মশা। রোগের বাহক মশাদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখায় তাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে ব্যাঙের। গবেষকদের মতে, ১৯৮০ থেকে ২০১০ সাল অবধি কোস্টা রিকা আর পানামা অঞ্চলে ম্যালেরিয়ার প্রাদুর্ভাবও ভয়ানক হয়ে উঠেছিল।

নীতিনির্ধারক বা প্রশাসনের কাছে গবেষকদের আর্জি, যাতে মানব-উন্নয়নের পরিকল্পনার সময় আঞ্চলিক জীববৈচিত্র্য খেয়াল রাখা হয়।