মহাকাশে দীর্ঘ যাত্রাপথে এবার মঙ্গলের সাহায্য নিতে চলেছে নাসা-র মহাকাশযান সাইকি মিশন। এই মে মাসেই মহাকাশযানটি মঙ্গলের খুব কাছ দিয়ে উড়ে যাবে। এই সময় মঙ্গলের মহাকর্ষীয় টান ব্যবহার করে সে নিজের গতি বাড়াবে এবং পথ কিছুটা বদলে নেবে, যাতে ধাতুসমৃদ্ধ গ্রহাণু ‘সাইকি’-র দিকে আরও দ্রুত এগোতে পারে। ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে উৎক্ষিপ্ত এই মহাকাশযানটি সৌরশক্তিচালিত বৈদ্যুতিক প্রপালশন ব্যবহার করে ধীরে ধীরে গতি বাড়াচ্ছে। তবে শুধু ইঞ্জিনের উপর নির্ভর না করে, জ্বালানি বাঁচাতে বিজ্ঞানীরা মঙ্গলের মহাকর্ষকেও কাজে লাগাচ্ছেন। এই উড়ান শুধু গতিবৃদ্ধির জন্যই নয়, বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। মঙ্গলের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় যানটির ক্যামেরা হাজার হাজার ছবি তুলবে। এগুলি ভবিষ্যতে সাইকি গ্রহাণুর কক্ষপথে পৌঁছানোর আগে যন্ত্রগুলির গায় পরিমাপের উপযুক্ত দাগ বসিয়ে নিতে (ক্যালিব্রেট করতে) সাহায্য করবে। প্রথমে মঙ্গলকে পূর্ণ লাল গোলকের মতো দেখা যাবে না। মহাকাশযানটি গ্রহের রাতের দিক থেকে এগোবে বলে সূর্যের আলোয় মঙ্গলের সরু অর্ধচন্দ্রাকৃতি অংশই দেখা যাবে। ধীরে ধীরে গ্রহটির আরও উজ্জ্বল দৃশ্য ধরা পড়বে। বিজ্ঞানীরা আরও আশা করছেন, এই সময় মঙ্গলের চারপাশে থাকতে পারে এমন ক্ষীণ ধুলোর বলয়ও ক্যামেরায় ধরা পড়তে পারে। এছাড়া মহাকাশযানটির অন্যান্য যন্ত্র মঙ্গলের চৌম্বক ক্ষেত্র ও মহাজাগতিক রশ্মির পরিবর্তনও পর্যবেক্ষণ করবে। সবকিছু ঠিক থাকলে মঙ্গলের মহাকর্ষীয় সাহায্য নিয়ে মহাকাশযানটি আরও দ্রুত মূল গ্রহাণুপুঞ্জের দিকে এগিয়ে যাবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৯ সালের শেষ দিকে সাইকি গ্রহাণুর কক্ষপথে পৌঁছবে এই সাইকি মিশন।
সূত্রঃ NASA Science Editorial Team; May 2026
