মস্তিষ্কে হাজারের বেশি ছোটো ছোটো প্রোটিন

মস্তিষ্কে হাজারের বেশি ছোটো ছোটো প্রোটিন

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মানুষের কোষে থাকে জিন, আর তার নির্দেশে তৈরি হয় নানা ধরনের প্রোটিন। এতদিন গবেষণায় মূলত বড় প্রোটিনগুলিই গুরুত্ব পেয়েছে। ফলে অতি ক্ষুদ্র প্রোটিন বা মাইক্রোপ্রোটিন অনেকটাই নজরের বাইরে ছিল। সম্প্রতি মানুষের মস্তিষ্কের সামনের দিকের ফ্রন্টাল কর্টেক্সে ১,০৬৭টি মাইক্রোপ্রোটিনের সন্ধান পেয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাল্ক ইনস্টিটিউটের গবেষকরা। এগুলির প্রতিটিতে ১৫০টি বা তার কম অ্যামিনো অ্যাসিড রয়েছে; গড়ে মাত্র ৫৮টি। আলঝাইমার্সে আক্রান্ত ও অনাক্রান্ত মানুষের মস্তিষ্কের ৬০০টিরও বেশি নমুনার পুরনো তথ্য নতুন করে বিশ্লেষণ করে এই প্রোটিনগুলির সন্ধান মেলে। ছোট আকার এবং বড় প্রোটিন তৈরির জিনের মধ্যেই এদের জিনগত নির্দেশ থাকায় এতদিন এগুলি শনাক্ত করা কঠিন ছিল। গবেষকরা নতুন ডেটাবেস ও মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে প্রায় ৩,০০০ সম্ভাব্য প্রোটিনের মধ্যে ১,০৬৭টির অস্তিত্বের জোরালো প্রমাণ পান। MKKS জিন, যা এতদিন ৫৭০ অ্যামিনো অ্যাসিডের দ্বারা গঠিত একটি বড় প্রোটিন বলে জানা ছিল, মস্তিষ্কের নমুনায় সেই প্রোটিনের প্রায় কোনও চিহ্নই পাওয়া যায়নি। বরং একই জিনগত অঞ্চল থেকে তৈরি মাত্র ৬৩ অ্যামিনো অ্যাসিডের দ্বারা গঠিত একটি মাইক্রোপ্রোটিন প্রচুর পরিমাণে পাওয়া গেছে। আলঝাইমার্সের ক্ষতি ও ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত মানুষের মস্তিষ্কে এই মাইক্রোপ্রোটিনের পরিমাণও তুলনামূলক কম। গবেষকরা দেখেছেন, প্রোটিনটির সঙ্গে কোষের মাইটোকন্ড্রিয়া, অর্থাৎ শক্তি প্রস্তুত কেন্দ্রের সম্পর্ক রয়েছে। ল্যাবে মাইক্রোগ্লিয়া কোষে পরীক্ষা চালিয়ে দেখা যায়, এই প্রোটিন তৈরির জিনগত অংশ সরিয়ে দিলে কোষটির অক্সিজেন ব্যবহারের ক্ষমতা কমে যায়। তবে মাইক্রোপ্রোটিনের ঘাটতিই আলঝাইমার্সের কারণ, এমন নিশ্চিত প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি। গবেষণাটি মূলত দেখিয়েছে, মস্তিষ্কে এতদিনকার অজানা বহু অতিক্ষুদ্র প্রোটিনও কোষের গুরুত্বপূর্ণ কাজে ভূমিকা পালন করতে পারে।

সূত্র: A microprotein atlas of the human frontal cortex in Alzheimer’s disease- Brendan Miller, Eduardo Vieira de Souza, et. al; Sept; 2026

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

thirteen − four =