নাসার ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ মহাকাশ গবেষণায় এবং বহির্জাগতিক গ্রহের সন্ধানে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল। ৩০ আগস্টে উৎক্ষিপ্ত এই ইনফ্রারেড টেলিস্কোপটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বহির্জাগতিক গ্রহ অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, বর্তমানে শনাক্ত প্রায় ৬,০০০ বহির্গ্রহের তুলনায় এই নতুন টেলিস্কোপটি একাই ভবিষ্যতে প্রায় ৪০ গুণ বেশি, অর্থাৎ প্রায় ১ লক্ষ নতুন গ্রহ খুঁজে পেতে পারে।
এটির অন্যতম বড় সুবিধা তার সুবিশাল নজরের পরিধি। এটি আমাদের আকাশগঙ্গা ছায়াপথের কেন্দ্রের দিকে তাকিয়ে প্রতি ১২ মিনিটে কয়েকশো কোটি নয়, বরং শত শত মিলিয়ন নক্ষত্র পর্যবেক্ষণ করবে। এর দেখার প্রধান পদ্ধতি হলো ট্রানজিট/ পরিবহন পদ্ধতি। কোনো গ্রহ তার নক্ষত্রের সামনে দিয়ে গেলে নক্ষত্রের আলো সামান্য কমে যায়, আর সেই ক্ষীণ আলোর পরিবর্তন শনাক্ত করেই এই পদ্ধতিতে গ্রহের অস্তিত্ব বোঝা যায়।
তবে এই বিশেষ পদ্ধতিটি মূলত বড় এবং নক্ষত্রের কাছাকাছি থাকা গ্রহ শনাক্ত করতে বেশি কার্যকর। তাই ন্যান্সি রোমান টেলিস্কোপটি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল ব্যবহার করবে, তার নাম মাইক্রোলেন্সিং। কোনো গ্রহের মহাকর্ষ দূরের নক্ষত্রের আলোকে বাঁকিয়ে ও সাময়িকভাবে উজ্জ্বল করে তুললে সেই পরিবর্তন থেকেও গ্রহটিকে শনাক্ত করা যায়। এই পদ্ধতিতে প্রায় ১,০০০টি গ্রহর সন্ধান পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে পৃথিবী বা মঙ্গলের মতো আকারের গ্রহও থাকতে পারে। প্রথম পাঁচ বছরের মধ্যেই এটি প্রায় ১০০টি পৃথিবী বা মঙ্গল সদৃশ গ্রহ শনাক্ত করতে পারে বলে আশা।
শুধু পরিচিত গ্রহই নয়, এটি এমন কিছু গ্রহকেও শনাক্ত করবে , যেগুলো কোনো নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করে না। পাশাপাশি এমন গ্রহেরও সন্ধান মিলতে পারে যেগুলো ধীরে ধীরে তাদের নক্ষত্রের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে কিংবা নক্ষত্র যাদের ‘খেয়ে ফেলছে’।
এর আরেকটি অত্যাধুনিক যন্ত্রাংশ হলো করোনাগ্রাফ। বিশেষ ধরনের পরিবর্তনশীল আয়না ব্যবহার করে এটি উজ্জ্বল নক্ষত্রের আলো কমিয়ে তার চারপাশের গ্রহের ক্ষীণ আলো সরাসরি ধরতে পারবে। এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতের বাসযোগ্য বিশ্ব পর্যবেক্ষণাগারের জন্য পরীক্ষামূলক ভিত্তি তৈরি করবে। ভবিষ্যতে সেই টেলিস্কোপ পৃথিবীর মতো গ্রহের ছবি তুলে সেখানে জীবনের সম্ভাব্য চিহ্ন খোঁজার চেষ্টা করবে।
অর্থাৎ এই টেলিস্কোপটি শুধু কয়েকটা গ্রহই পর্যবেক্ষণই করবে না , সেই সেই গ্রহগুলো কীভাবে তৈরি হয়, কোথা থেকে তৈরি হয় এবং আমাদের পৃথিবী জগৎসংসারে কতটা বিশেষ, সে সম্পর্কেও মহাবিশ্বের অনেক পূর্ণাঙ্গ ছবি তুলে ধরবে।
সূত্র: https://www.nature.com/articles/d41586-026-02662-7
