মানুষের শরীরে গজাবে নতুন অঙ্গ? 

মানুষের শরীরে গজাবে নতুন অঙ্গ? 

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ২ মে, ২০২৬

ধরুন, আঘাতে শরীরের কোনও অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলো। আমরা জানি, ক্ষত শুকিয়ে যাবে, দাগ পড়বে, কিন্তু হারানো অংশ আর ফিরে আসবে না। তাই তো? কিন্তু যদি বলা হয়, ভবিষ্যতে শরীর নিজেই নতুন কোষকলা গড়ে তুলতে পারবে? শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও, যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস এ অ্যান্ড এম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা ঠিক এই সম্ভাবনার কথাই বলছেন। মানুষের শরীরে হয়তো এমন এক পুনর্গঠন ক্ষমতা আছে, যা এতদিন ঘুমিয়ে ছিল। আসলে স্তন্যপায়ী প্রাণীর শরীরকে আমরা যতটা সীমাবদ্ধ ভাবতাম, বাস্তবে তা হয়তো ততটা নয়। এই যেমন সালামান্ডার বা তার মতো কিছু প্রাণী কাটা লেজ বা হাত-পা আবার গজিয়ে তুলতে পারে। কিন্তু মানুষ বা ইঁদুরের মতো প্রাণীর ক্ষেত্রে কী হয়? ক্ষতস্থানে শরীর নতুন অঙ্গ বানায় না, বরং সেখানে ক্ষতচিহ্ন বা দাগ তৈরি করে। ক্ষত সেরে যায়, কিন্তু আগের অঙ্গ ফিরে আসে না। ঠিক এই জায়গাতেই নতুন গবেষণা বড় প্রশ্ন তুলেছে। গবেষকরা দুটি বিশেষ গ্রোথ ফ্যাক্টর Fibroblast Growth Factor 2 (FGF2) এবং Bone Morphogenetic Protein 2 (BMP2) ব্যবহার করে একটি দু-ধাপের চিকিৎসা পদ্ধতি তৈরি করেছেন। এগুলো যেন শরীরকে বলে দেয়, “শুধু দাগ বানিয়োও না, নতুন করে গড়ে তোলো।‘’ অর্থাৎ যেখানে আগে শরীর সাধারণত ক্ষত শুকিয়ে দাগ ফেলত, সেখানে এবার সে কোষগুলোকে নতুন কোষকলা তৈরির দিকে ঠেলে দেয়। ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করে ফল মিলেছে চমকপ্রদ। কেটে যাওয়া অংশে শুধু চামড়া নয়, হাড়, লিগামেন্ট, এমনকি সন্ধিগ্রন্থির মতো জটিল গঠনও আবার তৈরি হয়েছে। তবে হ্যাঁ, নতুন অংশটি একেবারে আগের মতো নিখুঁত নয়। কিন্তু সবচেয়ে বড় কথা, সেখানে প্রয়োজনীয় একটা কাঠামো তৈরি হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় বাইরে থেকে কোনও স্টেম সেল যোগ করা হয়নি। অর্থাৎ শরীরের মধ্যেই যে কোষ ছিল, তাদেরই নতুনভাবে কাজ শেখানো সম্ভব হয়েছে। এখানেই গবেষণার আসল গুরুত্ব। পুনর্গঠনের সম্ভাবনা হয়তো আমাদের শরীরেই আছে, শুধু সেটিকে চালু করার সুইচটা এতদিন জানা ছিল না। তবে এখনই কি মানুষের নতুন করে হাত-পা গজাতে পারবে? না, সে কথা এখনই বলা যাচ্ছে না। কারণ এই গবেষণা এখনও প্রাথমিক স্তরে, এবং এটা ইঁদুরের উপরেই প্রযুক্ত হয়েছে মাত্র। মানুষের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা, কার্যকারিতা ও দীর্ঘমেয়াদি ফল নিয়ে আরও বহু পরীক্ষা বাকি। তবে কাছাকাছি সময়ে এর অন্য বড় ব্যবহার হতে পারে। যেমন, ক্ষতস্থানের দাগ কমানো, দ্রুত ক্ষত সারানো, অস্ত্রোপচারের পরে ভালোভাবে কোষকলা মেরামত করা। এই গবেষণায় ব্যবহৃত BMP2 ইতিমধ্যেই কিছু চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। FGF2-ও পরীক্ষার পর্যায়ে রয়েছে। সব মিলিয়ে, হয়তো শরীর নিজেই বলবে, “আবার শুরু করা যাক।”

 

সূত্র: Theory of Everything; April; 2026.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

seven − six =