কোন স্তন্যপায়ী প্রাণী কতটা একগামী, তা নিয়ে নতুন গবেষণা করেছে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়। গবেষকরা বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে আপন ভাইবোন ও সৎ ভাইবোনের অনুপাত বিশ্লেষণ করে একটি “মনোগ্যামি লিগ টেবিল” তৈরি করেছেন। এই পদ্ধতিকে দীর্ঘমেয়াদি একগামী সম্পর্ক ও নির্দিষ্ট সঙ্গীর সঙ্গে প্রজননের নির্ভরযোগ্য সূচক হিসেবে ধরা হচ্ছে। ৩৫টি স্তন্যপায়ী প্রজাতির মধ্যে মানুষের ক্ষেত্রে আপন ভাইবোনের হার পাওয়া গেছে ৬৬ শতাংশ। এই ফলাফলে মানুষ তালিকায় সপ্তম স্থানে রয়েছে। দেখা যাচ্ছে, মানুষ মিরক্যাটের থেকেও বেশি একগামী। মিরক্যাটের স্কোর প্রায় ৬০ শতাংশ। এদের সমাজে সাধারণত একটি প্রধান জুটি প্রজনন করলেও অন্য সদস্যদের মধ্যেও কখনও সম্পর্ক তৈরি হয়। তবে মানুষের থেকে এগিয়ে রয়েছে ইউরেশীয় বিভার। প্রায় ৭৩ শতাংশ স্কোর পাওয়া এই প্রাণীরা আজীবন জুটি বেঁধে থাকার জন্য পরিচিত। তারা পরিবার নিয়ে একসঙ্গে বাস করে এবং সন্তান প্রতিপালনও যৌথভাবে করে।
গবেষকদের মতে, মানুষ শিম্পাঞ্জি বা গরিলার মতো ঘনিষ্ঠ প্রাইমেট আত্মীয়দের তুলনায় অনেক বেশি একগামী প্রবণতা দেখায়। ঐ প্রাণীদের ক্ষেত্রে একাধিক সঙ্গীর সঙ্গে সম্পর্কের প্রবণতা বেশি হওয়ায় তাদের স্কোর অনেক কম। বরং মানুষের আচরণ নেকড়ে, গিবন ও কিছু ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর সঙ্গে বেশি মেলে, যারা স্থায়ী জুটি গঠনে গুরুত্ব দেয়। ‘প্রসিডিংস অব দ্য রয়্যাল সোসাইটি’ পত্রিকায় প্রকাশিত এই গবেষণায় বলা হয়েছে, মানুষের সম্পর্ক পুরোপুরি একগামী না হলেও বিবর্তনের পথে সন্তান লালনপালনে মা-বাবার যৌথ ভূমিকা ও দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই ফলাফল মানুষের সামাজিক আচরণকে নতুনভাবে ব্যাখ্যা করতে সাহায্য করবে। এ-ও দেখাবে যে একগামিতার বিষয়টি স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মধ্যে নানা মাত্রায় দেখা যায়।
সূত্র: Science Acumen ; May ; 2026
