রাগের কথা বললে রাগ জমেই থাকে 

রাগের কথা বললে রাগ জমেই থাকে 

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ২ আগষ্ট, ২০২৬

রাগ বা ক্ষোভের কথা বন্ধু বা কাছের মানুষের কাছে উজাড় করে বললে মন হালকা হয় – এমন ধারণা দীর্ঘপ্রচলিত। কিন্তু সাম্প্রতিক মনোবিজ্ঞান গবেষণা বলছে, এই অভ্যাস অনেক সময় উল্টে রাগ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। বারবার ক্ষোভের কথা বললে মানুষ সেই ঘটনার নেতিবাচক স্মৃতি ও অনুভূতিগুলোকেই মনের মধ্যে বারবার জাগিয়ে তুলতে থাকে। এতে মস্তিষ্কে রাগের সঙ্গে যুক্ত স্নায়বিক প্রতিক্রিয়া আরও শক্তিশালী হয়, ফলে রাগ সহজে কমে না; বরং দীর্ঘস্থায়ী হয়। এ ধরনের অভিযোগ বা ক্ষোভ প্রকাশ মানুষকে একই বিষয় নিয়ে বারবার ভাবতে বাধ্য করে, যা মানসিক অস্থিরতা বাড়ায়। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, যারা বারবার নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে, তাদের রাগের মাত্রা পরে তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, রাগ প্রকাশের পরিবর্তে বরং অন্য স্বাস্থ্যকর কৌশল অনুশীলন করলে মানসিক সুস্থতা বজায় থাকে এবং পারস্পরিক সম্পর্কও ভালো থাকে। আসলে ভাষার মধ্য দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলে সেইসব সিস্টেমই জাগ্রত হয়ে ওঠে যেগুলি আগ্রাসী মনোভাবকে মদত দেয়, ফলে আগুনে যেন ঘি পড়ে। বোধবুদ্ধি সংক্রান্ত স্নায়বিক অনুষঙ্গ-ভিত্তিক তত্ত্ব (কগনিটিভ নিউরো-অ্যাসোসিয়েটিভ থিওরি) এই কথাই বলে। এই তত্ত্ব অনুযায়ী সক্রোধে চিন্তা ও কাজ করলে একটা ‘ফিডব্যাক লুপ’ তৈরি হয়, যা নেতিবাচক আবেগগুলিকে কমানোর বদলে বাড়িয়ে তোলে। এর কার্যকর বিকল্প হল, গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া, এমন ধরনের শারীরিক ব্যায়াম করা যাতে আগ্রাসী চিত্রকল্প নেই, কিংবা পরিস্থিতিটাকে এমনভাবে ভাবা যাতে আগ্রাসী আবেগ কম জাগ্রত হয়। অর্থাৎ মনোযোগ অন্যদিকে সরালে, শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করলে, শান্তভাবে শরীরচর্চা বা পরিস্থিতিকে ভিন্নভাবে দেখার চেষ্টা করলে সেটা রাগ নিয়ন্ত্রণে বেশি কার্যকর।

 

.সূত্র: Bushman, B. J. Does Venting Anger Feed or Extinguish the Flame? Catharsis, Rumination, Distraction, Anger, and Aggressive Responding. Personality and Social Psychology Bulletin.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 × 2 =