রুশ ড্রোন হামলায় বিধ্বস্ত ইউক্রেনের বিজ্ঞানকেন্দ্র   

রুশ ড্রোন হামলায় বিধ্বস্ত ইউক্রেনের বিজ্ঞানকেন্দ্র   

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ৬ অক্টোবর, ২০২৬

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অভিঘাত এবার সরাসরি আঘাত হানল ইউক্রেনের বৈজ্ঞানিক পরিকাঠামোয়। ২৮শে সেপ্টেম্বর ২০২৬ দুপুর ১টা ৩০ মিনিট নাগাদ কিয়েভে ইউক্রেনের ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস (NASU)-এর সদর দপ্তরে একটি জেটচালিত ড্রোন আছড়ে পড়ে। অন্তত দু’জন নিহত হন। একজন নিখোঁজ ছিলেন এবং এই ঐতিহাসিক ভবনটির একটি অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগুন ও ধোঁয়ায় বহুতলের বিভিন্ন তলায় আটকে পড়া মানুষকে জানালা ও কার্নিশে আশ্রয় নিয়ে উদ্ধারের অপেক্ষা করতে দেখা যায়।

হামলার সময় NASU-এর প্রেসিডেন্ট আনাতোলি জাগোরোদনি নিজের দপ্তরেই ছিলেন। বিস্ফোরণের অভিঘাতে তাঁর ঘরের জানালা ভেঙে যায় এবং ঘরটি তছনছ হয়ে যায়। তবে তিনি অক্ষত অবস্থায় বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন অ্যাকাডেমির এক প্রশাসনিক কর্মী, যিনি মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে বাইরে যাওয়ার সময় হামলার শিকার হন। দূর্ঘটনাস্থলের কাছেই অবস্থিত এম.জি. খোলোদনি ইনস্টিটিউট অব বোটানির উদ্ভিদবিজ্ঞানী সের্গেই মোসিয়াকিন জানান, ঘটনাটি ইউক্রেনের বিজ্ঞানজগতের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক।

হামলার সময় কিয়েভ শহরে হলুদ স্তরের বিমান-হামলার সতর্কতা জারি ছিল। সম্প্রতি শহরটি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকি অনুযায়ী দুই স্তরের সতর্কতা ব্যবস্থা চালু করেছে। হলুদ সতর্কতায় কর্মস্থল চালু রাখা যায়, কারণ মানুষকে সব সময় আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা সম্ভব নয়। আর লাল সতর্কতায় কাজ বন্ধ করে আশ্রয় নেওয়া বাধ্যতামূলক।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া পূর্ণমাত্রার আক্রমণ শুরু করার পর ইউক্রেনের বিজ্ঞান ও শিক্ষার পরিকাঠামোও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। দেশটির শিক্ষা ও বিজ্ঞান মন্ত্রকের উপমন্ত্রী ডেনিস কুরবাতভের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত অন্তত ১৮০ জন বিজ্ঞানী নিহত হয়েছেন এবং ৪,০০০-এর বেশি বিজ্ঞান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। এর মধ্যে কিয়েভের ও.ভি. পাল্লাদিন ইনস্টিটিউট অব বায়োকেমিস্ট্রিও রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে গবেষণা অব্যাহত রাখতে ইউক্রেন সরকার নতুন নিরাপদ পরিকাঠামো গড়ে তুলছে। চলতি বছরে বিজ্ঞান মন্ত্রক কয়েকটি ভূগর্ভস্থ গবেষণাগার নির্মাণ শুরু করেছে। ভবিষ্যতে আরও গবেষণাগার ও সুরক্ষিত আশ্রয়কেন্দ্র তৈরির জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি প্রয়োজন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট ব্যবস্থা। যুদ্ধের মধ্যেও ইউক্রেনের বিজ্ঞানীরা গবেষণা থামাবেন না। বৈজ্ঞানিক কর্মকাণ্ডকে সচল রাখার এই প্রত্যয়ই এখন দেশটির বিজ্ঞানব্যবস্থার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

সূত্র: Russian drone kills at least two in Ukraine science academy attack, New underground labs are being built as war rages on 28 Sep 2026,4:45 PM ET, By Richard Stone.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

fifteen − 6 =