বন্য ডলফিনদের আচরণ নিয়ে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে বিস্ময়কর তথ্য। সমুদ্রের তলদেশে শিকার ধরার সময় কিছু ডলফিন তাদের নাকের ওপর সামুদ্রিক স্পঞ্জ ঢেকে নেয়। সম্প্রতির এক ভিডিও ফুটেজে এই আচরণ স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে। এই অদ্ভুত কৌশলটি সর্বজনীন নয়, মাত্র ৫ শতাংশ ডলফিন এই পদ্ধতি ব্যবহার করে। তাছাড়া এই দক্ষতা তারা নিজেরা আবিষ্কার করে না, মা ডলফিন থেকে শাবকদের মধ্যে প্রজন্মের পর প্রজন্মে শেখানো হয়। ডেনমার্কের আরহুস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক এলেন রোজ জ্যাকবস এ গবেষণার নেতৃত্ব দেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘শার্ক বে ডলফিন রিসার্চ প্রজেক্ট’-এর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করেন। অস্ট্রেলিয়ার শার্ক বে অঞ্চলে ১৯৮৪ সাল থেকে এই ডলফিনদের উপর নজর রাখা হচ্ছে। তারা কেন এমন একটি পদ্ধতি ব্যবহার করে, যা তাদের স্বাভাবিক শিকার ধরার ক্ষমতাকেই কিছুটা বাধাগ্রস্ত করে? কারণ ডলফিন সাধারণত শব্দ তরঙ্গ দ্বারা অবস্থান নির্ণয় বা ‘ইকোলোকেশন’-এর মাধ্যমে শিকার খুঁজে পায়। কিন্তু স্পঞ্জ নাকের উপর চেপে থাকলে সেই শব্দ তরঙ্গ বিকৃত হয়ে যায়, ফলে শিকার শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবুও এই আচরণের একটা সুবিধা রয়েছে। সমুদ্রের তলায় অনেক সময় ধারালো পাথর বা বিষাক্ত প্রাণী লুকিয়ে থাকে। স্পঞ্জ নাকের ওপর থাকলে তা ডলফিনের সংবেদনশীল চামড়াকে সুরক্ষা দেয়। ফলে তারা নিরাপদে বালির নীচে লুকিয়ে থাকা মাছ খুঁজে বের করতে পারে। স্পঞ্জের আকার ও গঠন অনুযায়ী শব্দের প্রতিফলন ভিন্ন হয়। কোনো স্পঞ্জ সরু রেখায় শব্দ পাঠায়, আবার কোনটি তা ছড়িয়ে দেয়। ফলে প্রতিবার নতুন স্পঞ্জ ব্যবহার করলে ডলফিনকে নতুন করে মানিয়ে নিতে হয়। এতে তাদের মস্তিষ্কের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে এবং শেখার প্রক্রিয়াও ধীর হয়। এই কারণেই সম্ভবত খুব কম ডলফিন এই পদ্ধতি রপ্ত করতে পারে। শাবকরা প্রায় তিন থেকে চার বছর মায়ের সঙ্গে থেকে এই কৌশল শেখে। দীর্ঘ অনুশীলন ছাড়া এই জটিল পদ্ধতি আয়ত্ত করা সম্ভব নয়। তবে যারা এই কৌশল রপ্ত করে তারা কিন্তু বিশেষ সুবিধা পায়। তারা এমন জায়গা থেকে মাছ ধরতে পারে, যেখানে অন্য ডলফিনরা পৌঁছাতে পারে না। সাধারণত তারা স্পঞ্জ-ঢাকা নাক দিয়ে বালির নীচে খোঁজাখুঁজি করে মাছ বের করে আনে, তারপর স্পঞ্জ ফেলে দিয়ে শিকার ধরে। এই আচরণ শুধু একটি শিকার কৌশল নয়, এটি ডলফিনদের সামাজিক ও পারিবারিক জীবনেরও অংশ। গবেষকরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে সমুদ্রের পরিবেশ ও শব্দ দূষণ বাড়লে এই বিশেষ কৌশল ব্যবহারকারী ডলফিনদের টিকে থাকা সমস্যার ব্যাপার হয়ে উঠতে পারে। জাহাজ বা মানুষের কর্মকাণ্ডের আওয়াজ ডলফিনদের ইকোলোকেশন ব্যবস্থাকে ব্যাহত করে। এখনও অনেক প্রশ্নের উত্তর অজানা। কেন কিছু ডলফিন নির্দিষ্ট ধরনের স্পঞ্জ বেছে নেয়, আর ভবিষ্যতে কোন দল টিকে থাকবে, তা সময়ই বলবে।
সূত্র: Earth . com ; May ; 2026
