শিশুদের মস্তিষ্কের ক্যানসারের চিকিৎসায় নতুন আশার ইঙ্গিত দিচ্ছে এক ধরনের টি-সেল থেরাপি। পরীক্ষামূলক এই চিকিৎসা নেওয়ার পর তিন জন রোগীর শরীরে এখন আর ক্যানসারের কোনও চিহ্ন নেই। এমনকি তাদের এখন কোন চিকিৎসাও চলছে না। তবে গবেষণাটি এখনও একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। ছোট পরিসরের ফেজ-১ ট্রায়ালে ৩৩ জন শিশু ও তরুণকে রাখা হয়। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ ডিফিউজ ইন্ট্রিনসিক পন্টাইন গ্লিওমা (DIPG)-তে আক্রান্ত ছিলেন। আবার কারো কারো চিকিৎসার পর ক্যানসার ফের ফিরে আসে। শিশুদের মস্তিষ্কের অন্যতম জটিল ক্যানসার DIPG-এ মস্তিষ্কের পন্স অংশে টিউমার তৈরি হয়। রোগ ধরা পড়ার পর সাধারণত রোগীরা গড়ে প্রায় ১১ মাস বাঁচে। তাই এই রোগে আক্রান্ত হয়ে কয়েক বছর ধরে রোগমুক্ত থাকা খুবই বিরল ঘটনা। এক্ষেত্রে প্রথমে রোগীর শরীর থেকে রোগ প্রতিরোধক টি সেল সংগ্রহ করা হয়। তারপর ল্যাবরেটরিতে সেই কোষগুলিকে এমনভাবে তৈরি করা হয়, যাতে তারা ক্যানসার কোষকে সহজে চিনতে পারে। এর জন্য ক্যানসার কোষে থাকা WT1, PRAME এবং surviving-এই তিন প্রোটিনকে নিশানা হিসেবে নেওয়া হয়। পরে ল্যাবে তৈরি ঐ টি-সেলের সংখ্যা বাড়িয়ে আবার রোগীর শরীরে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। গবেষকদের আশা ছিল, রক্তের সঙ্গে এই কোষগুলি মস্তিষ্কে পৌঁছে ক্যানসার কোষ খুঁজে বের করে সেগুলিকে ধ্বংস করবে। সব রোগীর ক্ষেত্রে অবশ্য একই ফল পাওয়া যায়নি। তবে কয়েক জনের ফল বেশ উল্লেখযোগ্য। DIPG-তে আক্রান্ত এক শিশু রোগ ধরা পড়ার পর প্রায় ৩২ মাস বেঁচে আছে। আর তিনজন পুনরায় ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছিল, তবে এই চিকিৎসার পর তারা প্রায় ৩২, ৪১ এবং ৫২ মাস ধরে ক্যানসারমুক্ত রয়েছে। গবেষণাটি ছোট। তাই অধিকাংশ রোগীর ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময়ের ফল নিয়ে কাজ করা যায়নি। কেন কিছু রোগী এই চিকিৎসায় এত ভালো সাড়া দিল, সেটা এখনও স্পষ্ট নয়। তাছাড়া চিকিৎসার ঝুঁকিও রয়েছে। কয়েক জন রোগীর ক্ষেত্রে টিউমার ফুলে যাওয়ার মতো গুরুতর সমস্যা দেখা গেছে। এমনকি একজনের মৃত্যুও ঘটেছে। তার পরেও DIPG-এর মতো কঠিন ক্যানসারে কয়েক জন রোগী বছরের পর বছর ক্যানসারমুক্ত থাকায় এই ফলকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন গবেষকরা। এবার আরও বড় পরিসরে গবেষণা করে দেখা হবে, চিকিৎসাটি কতটা নিরাপদ ও কার্যকর এবং কোন রোগীরা এর থেকে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হতে পারেন।
সূত্র: Gomez et al., “Multi-antigen-targeting T cells in pediatric central nervous system tumors: a phase 1 trial”, Nature Medicine (2026)
