শৈশবের মানসিক আঘাত বা প্রতিকূল অভিজ্ঞতা একজন মানুষের ভবিষ্যৎ, প্রেম বা দাম্পত্য সম্পর্ককে প্রভাবিত করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব জর্জিয়া-র এক গবেষণায় এমনই তথ্য উঠে এসেছে। শৈশবের নির্যাতন, অবহেলা, বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ, পরিবারের সদস্যের মৃত্যু বা দীর্ঘদিনের অভাব-অনটন প্রভৃতি অভিজ্ঞতা পরবর্তী জীবনে বিষণ্নতা ও উদ্বেগের ঝুঁকি বাড়ায়। এর প্রভাব পড়ে সঙ্গীর সঙ্গে যোগাযোগ, স্নেহ প্রকাশ এবং মতবিরোধ সামলানোর ক্ষমতার ওপর, ফলে সম্পর্কের সন্তুষ্টি কমে যেতে পারে। প্রধান গবেষক অ্যানালিসা অ্যারোয়ো বলেন, একটি সম্পর্ক প্রতিদিনের ছোট ছোট ইতিবাচক আচরণের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। নিয়মিত আন্তরিকতা, সহযোগিতা ও ভালো যোগাযোগ ভবিষ্যতের কঠিন সময় মোকাবিলার ভিত্তি তৈরি করে। এই গবেষণায় UGA ELEVATE কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ২০০-রও বেশি দম্পতির তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এতে দেখা যায়, যাঁদের শৈশবে বেশি প্রতিকূল অভিজ্ঞতা ছিল, তাঁদের মধ্যে একাকিত্ব, উদ্বেগ ও বিষণ্নতার প্রবণতা বেশি। একই সঙ্গে সম্পর্কে যোগাযোগের সমস্যা এবং সম্পর্ক নিয়ে অসন্তুষ্টিও তাঁদের মধ্যে বেশি ছিল। আরেক গবেষক ইভিন রিচার্ডসন বলেন, দাম্পত্যের অনেক সমস্যার শিকড় বর্তমান আচরণে নয়, বরং শৈশবের অভিজ্ঞতায় লুকিয়ে থাকতে পারে। তাই সমস্যার মূল কারণ বোঝা জরুরি। তাছাড়া নারীদের ক্ষেত্রে শৈশবের মানসিক আঘাত তাঁদের নিজের পাশাপাশি সঙ্গীর সম্পর্ক-সন্তুষ্টিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তবে পুরুষদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব মূলত তাঁদের নিজের সম্পর্কের মূল্যায়নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। গবেষকরা মনে করছেন, শৈশব বদলানো না গেলেও তার প্রভাব সম্পর্কে সচেতন হওয়া, নিয়মিত ইতিবাচক যোগাযোগ বজায় রাখা এবং প্রয়োজনে কাউন্সেলিং বা দম্পতি-পরামর্শ নেওয়ার মাধ্যমে সম্পর্ককে আরও সুস্থ ও দৃঢ় করে তোলা সম্ভব।
সূত্র: Earth . com ; July ; 2026
