সমুদ্রগর্ভে ‘ভূতুড়ে জাল’

সমুদ্রগর্ভে ‘ভূতুড়ে জাল’

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ২৫ আগষ্ট, ২০২৬

ভারতের ১১,০৯৮ কিলোমিটার দীর্ঘ উপকূলরেখায় বাড়ছে পরিত্যক্ত মাছ ধরার সরঞ্জাম জনিত সমস্যা। জাল, দড়ি, ফাঁদ ও সুতো সমুদ্রে হারিয়ে যাওয়ার পরও দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকে। এতে আটকে পড়ে মাছ, কচ্ছপ, সামুদ্রিক পাখি সহ নানা প্রাণী মারা যায়। তাই এগুলিকে বলা হয় ‘ভূতুড়ে মাছ ধরার সরঞ্জাম’। UNEP ও FAO-র হিসাব অনুযায়ী, সামুদ্রিক আবর্জনার প্রায় ১০ শতাংশই হল মাছ ধরার সরঞ্জাম। প্রতি বছর বিশ্বে প্রায় ৬.৪ লক্ষ টন সরঞ্জাম হারিয়ে যায় বা পরিত্যক্ত হয়। ভারতেও সমস্যাটি ক্রমশ গুরুতর হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সামুদ্রিক মৎস্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান ICAR এবং বিভিন্ন উপকূলীয় গবেষণায় সমুদ্রে সিন্থেটিক জাল জমার বিষয়টি উঠে এসেছে। নাইলন ও পলিথিলিনের জাল দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় সমুদ্রে হারিয়ে গেলে দশকের পর দশক থেকে যেতে পারে। ঘূর্ণিঝড়, জাল নিয়ে সংঘাত, সমুদ্রতলে জাল আটকে যাওয়া, দুর্ঘটনা এবং উপযুক্ত বর্জ্য ব্যবস্থার অভাব এর প্রধান কারণ। উদ্ধার করা জালও সহজে পুনর্ব্যবহার করা যায় না। তাতে লবণ, বালি, মাছের অবশিষ্টাংশ, শৈবাল ও অন্যান্য আবর্জনা লেগে থাকে। একাধিক ধরনের পলিমার, ধাতু ও অন্যান্য উপাদান ব্যবহৃত হওয়ায় পুনর্ব্যবহার আরও কঠিন। উপরন্তু,উপকূলীয় অঞ্চলে বিশেষায়িত পুনর্ব্যবহার পরিকাঠামোর অভাব রয়েছে। সমস্যা মোকাবিলায় তামিলনাড়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ ২০২৫ সালে উপকূলবর্তী জেলায় জাল সংগ্রহকেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনা করে। এইচসিএল ফাউন্ডেশন ও ওয়ান আর্থ ফাউন্ডেশন-ও সামুদ্রিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও স্থানীয় সম্প্রদায়কে যুক্ত করার কাজে এগিয়ে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরনো জাল ফেরত দিলে অর্থ দেওয়া বা জমা রাখা টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করলে এতে মৎস্যজীবীদের অংশগ্রহণ বাড়বে। তবে এখনও এর ব্যবস্থাপনার জন্য ভারতে পৃথক জাতীয় কাঠামো নেই। প্রয়োজন পুনর্ব্যবহারযোগ্য একক-পলিমারের জাল, বন্দরে পৃথক সংগ্রহকেন্দ্র, বিশেষায়িত পুনর্ব্যবহার ব্যবস্থা, মৎস্যজীবীদের আর্থিক প্রণোদনা এবং জাল হারানো ও উদ্ধারের নির্ভরযোগ্য তথ্যভাণ্ডার। সমুদ্রে হারিয়ে যাওয়া একটি জাল চোখের আড়ালে চলে গেলেও তার ক্ষতি শেষ হয় না। বছরের পর বছর সেই ‘ভূতুড়ে জাল’ নীরবে সামুদ্রিক প্রাণীদের শিকার করে যেতে পারে। ভারতের নীল অর্থনীতি ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য এটি ক্রমেই বড় সমস্যা হয়ে উঠছে।

 

সূত্র: Down To Earth; August 2026

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

six − three =