সায়ানোব্যাকটেরিয়া ও বালিয়াড়ির উর্বরতা 

সায়ানোব্যাকটেরিয়া ও বালিয়াড়ির উর্বরতা 

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ২৬ জুন, ২০২৬

চীনের শাপোতো মরুভূমি গবেষণা ও পরীক্ষণ কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা এমন এক নতুন জৈবপ্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন, যার সাহায্যে বালির চলমান টিলাকে মাত্র ১০ থেকে ১৬ মাসের মধ্যে স্থিতিশীল ও উর্বর জমিতে পরিণত করা সম্ভব। এই পদ্ধতির মূল উপাদান পরীক্ষাগারে পরিবর্ধিত সায়ানোব্যাকটেরিয়া। এরা অত্যন্ত প্রাচীন আলোকসংশ্লেষী অণুজীব, যা তীব্র গরম ও শুষ্ক পরিবেশেও বেঁচে থাকতে পারে। বিজ্ঞানীরা অণুজীবগুলিকে শুকনো “কঠিন বীজ”-এর আকারে তৈরি করেন। পরে ড্রোনে করে বা হাতে করে সেগুলি মরুভূমির বালিয়াড়িতে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। বৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত এগুলি নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকে। আর্দ্রতা পেলেই সায়ানোব্যাকটেরিয়া দ্রুত বৃদ্ধি পেতে শুরু করে এবং এক ধরনের আঠালো শর্করাযুক্ত পদার্থ নিঃসরণ করে। এই পদার্থ বালুকণাগুলিকে একত্রে বেঁধে ফেলে, ফলে স্বাভাবিকভাবে যে মাটির স্তর তৈরি হতে প্রায় ১৫ বছর লাগে, তা মাত্র এক মৌসুমেই গড়ে ওঠে। এভাবে গঠিত কৃত্রিম জৈব মৃত্তিকা -ত্বক (‘ইনডিউসড বায়োলজিক্যাল সয়েল ক্রাস্ট’) বায়ুর কারণে মাটিক্ষয় প্রায় ৯০ শতাংশ কমিয়ে দিতে পারে। একই সঙ্গে এটি প্রাকৃতিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ার তুলনায় তিন গুণ দ্রুত জৈব কার্বন জমা করে। সায়ানোব্যাকটেরিয়া বাতাসের নাইট্রোজেনও মাটিতে সংবন্ধন করতে পারে। ফলে অনুর্বর বালিতে নাইট্রেট ও ফসফরাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান যুক্ত হয়। এর ফলে ঝোপঝাড়, শৈবাল ও ঘাসের মতো স্থানীয় উদ্ভিদ সহজে শিকড় গাড়তে পারে এবং একটি নতুন ক্ষুদ্র বাস্তুতন্ত্র গড়ে ওঠে। মরুভূমি পুনরুদ্ধার করার প্রচলিত প্রকল্পে সাধারণত বিপুল পরিমাণ জল ও শ্রমের প্রয়োজন হয়, কারণ সেখানে গাছ লাগানোর ওপর জোর দেওয়া হয়। কিন্তু অস্থির বালুময় পরিবেশে সেইসব গাছের অনেকগুলিই টিকে থাকতে পারে না। নতুন অণুজীবভিত্তিক এই পদ্ধতি সেই সীমাবদ্ধতা অনেকটাই দূর করতে পারে। তবে এই জৈব আচ্ছাদন ভারী যন্ত্রপাতি বা অতিরিক্ত পদচারণার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তা সত্ত্বেও চীনা বিজ্ঞান একাডেমি প্রায় ১ লক্ষ (প্রায় ৬,৭০০ হেক্টর) মরুভূমি এলাকায় এই প্রযুক্তি প্রয়োগের পরিকল্পনা করছে। বিজ্ঞানীদের মতে, ভূমিক্ষয় ও মরুকরণ রোধে লক্ষ্যভিত্তিক জৈবপ্রযুক্তি ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

one × one =