সারা গায়ে জ্বলছে আলো চল আকাশে উড়ি

সারা গায়ে জ্বলছে আলো চল আকাশে উড়ি

সোমবার রাতে আকাশের দিকে তাকিয়ে কালীঘাট-ভবানীপুরের মানুষ তো অবাক! আকাশের বুকে একটা আলোর মালা পাক খেয়ে যাচ্ছে ক্রমাগত। গত সপ্তাহে আকাশে মেঘ থাকায় উল্কাবৃষ্টি দেখতে পারেননি মানুষ। কিন্তু ওদিন মেঘলা আকাশে কি পাক খাচ্ছিল ওটা? কোনও শব্দ কিন্তু হচ্ছিল না। তাহলে এটা কী কোনও মহাজাগতিক বস্তু, নাকি কোনও অচেনা আকাশযান?
অবশেষে জানা গেল, না ওসব কিছুই না; কালীঘাটের নেপাল ভট্টাচার্য স্ট্রিটের বাদামতলার রাতুল সরকার নামে এক কিশোর বিশেষ এক ধরনের আলোয় সাজিয়েছে এক ঘুড়ি। আর সেই ঘুড়ি আকাশে উড়ে বেড়াচ্ছে আলোকিত এক পাখির মতো।
এমনটা কলকাতার বুকে আগে কখনও দেখা যায়নি, দাবী সদ্য কমার্স নিয়ে কলেজে ভর্তি হওয়া ওই কিশোর ও তার কাকা সৌমিকবাবুর। তাঁরও অনেক দিনের শখ ঘুড়ি ওড়ানো। আসলে এই বিশেষ শখ এই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বলতে গেলে বংশানুক্রমেই বাহিত হয়ে আসছে। এঁদের সংগ্রহে রয়েছে হাজারের ওপর নানা ধরনের ঘুড়ি, কুড়িটা মতো বিভিন্ন সাইজের লাটাই। পাশাপাশি এঁদের বাজি পোড়ানোর শখও রয়েছে।
কিন্তু কীভাবে এই অসম্ভবকে সম্ভব করলেন তাঁরা?

পুরো বিষয়টার আইডিয়া তাঁরা পান ইউটিউব দেখেই। আসলে আমেদামাদের মতো ঘুড়ি ওড়ানোয় খ্যাতি রয়েছে এমন শহরে এই কাজ ইতিমধ্যে হয়ে থাকলেও কলকাতার বুকে এইভাবে ঘুড়িতে আলো লাগিয়ে ওড়ানোর ব্যাপারটা এর আগে কেউই করে দেখেননি, এইরকম এক ভাবনা থেকেই তাঁদের এই কাজে এগিয়ে আসা। ছোট ঘুড়ি নিয়ে ব্যর্থ হওয়ার পর তাঁরা বিশেষ পাঁচতেল ভারী ঘুড়ি (লম্বায় প্রায় আড়াই ফুট) হাজরার মোড়ের দোকানে অর্ডার দিয়ে আনিয়ে নেন। তারপর একটি অনলাইন বিক্রয়-সাইট থেকে কেনা হয় এলইডি ব্যাটারিযুক্ত স্ট্রিপ লাইট। এবার ওই লাইটকে ঘুড়ির গায়ে সেলোটেপ দিয়ে লাগিয়ে নিয়ে ওড়ানো হল রাতের আকাশে। যে সুতোয় তাঁরা ঘুড়িটি বাঁধেন, সেটাকে বলে সাদ্দি সুতো। এই বিশেষ ধরনের সুতোর রং কমলা।
পুরো কাজটায় তাঁদের সময় লেগেছিল আট ঘণ্টার কাছাকাছি, আর আকাশে ওই ঘুড়ি ওড়ে প্রায় কুড়ি তিরিশ মিনিট ধরে। আসলে ওই আলোর মালা যত হালকা হবে, ঘুড়ি ততই ভালো উড়বে, মত সরকার পরিবারের। ঘুড়ির গায়ে লাগানো ওই আলোর ওজন কুড়ি গ্রাম মাত্র, আর ঘুড়িটির ওজন? মাত্র ১৫ গ্রাম।
আগামী দিনে কলকাতার বুকে এইরকম আলোকিত কাগজ-পাখি আরও আরও উড়ে বেড়াক, আরও বেশি মানুষ উৎসাহী হন, স্বপ্ন রাতুলদের। পাশাপাশি উত্তর কলকাতাকে অন্তত এই ব্যাপারে টেক্কা দেওয়া গিয়েছে, এই গর্বে এখন মত্ত হয়ে আছে রাতুল আর তাঁর পরিবার।