সিমলিপালের বাঘ কালো হয়ে যাচ্ছে 

সিমলিপালের বাঘ কালো হয়ে যাচ্ছে 

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ৯ মে, ২০২৬

ওডিশার সিমলিপাল টাইগার রিজার্ভ-এ সাম্প্রতিক এক অস্বাভাবিক প্রবণতা নিয়ে উদ্বিগ্ন বিজ্ঞানী ও সংরক্ষণবিদরা। এখানে দেখা যাচ্ছে তথাকথিত ‘কালো বাঘ’-এর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। তবে এই বাঘগুলি পুরোপুরি কালো নয়, এদের গায়ে কমলা রঙের উপর অস্বাভাবিক ঘন ও চওড়া কালো ডোরা থাকছে। এই অবস্থাকে বলা হয় ‘ছদ্ম-মেলানিজম’। সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ বলছে, এই সংরক্ষণক্ষেত্রে প্রায় অর্ধেক বাঘের মধ্যেই এই বৈশিষ্ট্য দেখা যাচ্ছে। দেখতে আকর্ষণীয় হলেও বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি আসলে একটি বড় সমস্যার ইঙ্গিত। এর মূল কারণ জিন বৈচিত্র্যের অভাব। সিমলিপালের বাঘের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম এবং এই বনাঞ্চলটি অনেকটাই বিচ্ছিন্ন। ফলে বাঘগুলির মধ্যে অন্তঃপ্রজনন বা ‘ইনব্রিডিং’ বাড়ছে। এই সীমিত জিনভাণ্ডারের মধ্যেই প্রজনন চলতে থাকায় একটি বিরল জিনগত পরিবর্তন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এবং বেশি সংখ্যক বাঘে দেখা দিচ্ছে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে বাঘের টিকে থাকার পক্ষে বিপজ্জনক হতে পারে। জিন বৈচিত্র্য কমে গেলে নানা স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে, প্রজনন ক্ষমতা কমে যেতে পারে, রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বেড়ে যায়। ফলে পুরো জনসমষ্টিই ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। এই সমস্যা মোকাবিলায় বন দপ্তর ও সংরক্ষণবিদরা নতুন পদক্ষেপের কথা ভাবছেন। যেমন, অন্যান্য বনাঞ্চল থেকে বাঘ এনে এখানে ছেড়ে দেওয়া। এর ফলে নতুন জিন এই জনসংখ্যায় যুক্ত হবে এবং জিন বৈচিত্র্য বাড়বে। এতে বাঘদের সামগ্রিক স্বাস্থ্য ও টিকে থাকার সম্ভাবনা বাড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু বন ও আবাসস্থল রক্ষা করলেই হবে না। বাঘদের মধ্যে জিনগত আদান-প্রদান নিশ্চিত করতে হবে এবং তাদের বিচ্ছিন্নতা কমাতে হবে। অর্থাৎ, সংরক্ষণে আরও সক্রিয় ও বৈজ্ঞানিক উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। গবেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনা শুধু সিমলিপালের জন্য নয়, বরং ছোট ও বিচ্ছিন্ন প্রাণী জনসংখ্যার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে, আকর্ষণীয় এই ‘কালো বাঘ’-এর উপস্থিতি ভবিষ্যতে বড় সংকটের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

 

সূত্র: Theory of Everything; April, 2026

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eighteen + fourteen =