সুমেরুতে ভাসমান পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র

সুমেরুতে ভাসমান পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ২৮ অক্টোবর, ২০২৬

রাশিয়ার সুদূর পূর্বাঞ্চলের দুর্গম চুকোটকা অঞ্চল। সেখানে তামার খনিতে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য তৈরি হচ্ছে নতুন ভাসমান পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র। এতে থাকবে দুটি পারমাণবিক চুল্লি, যাদের সম্মিলিত বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ১১৬ মেগাওয়াট। এফপিইউ-১০৬ বা পিইবি-১০৬ নামে পরিচিত এই ভাসমান বিদ্যুৎকেন্দ্রে বসানো হবে দুটি আরআইটিএম-২০০সি (RITM-200C) চুল্লি। প্রতিটির বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৫৮ মেগাওয়াট। রাশিয়ার পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে দ্বিতীয় চুল্লিটির নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। তবে দুটি চুল্লিই এখনও জাহাজে বসানো বাকি। বিদ্যুৎকেন্দ্রটির বিশেষত্ব হল, এটি নিজে চলতে পারবে না। নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছতে অন্য জাহাজের সাহায্যে একে টেনে নিয়ে যেতে হবে। জাহাজ নির্মাণের কারখানাতেই এর মূল যন্ত্রপাতি ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা একত্রে তৈরি করা হবে। পরে সম্পূর্ণ কাঠামোটিকে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে নির্দিষ্ট কর্মস্থলে। দুর্গম সুমেরু অঞ্চলে প্রচলিত বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি করা এবং সেখান থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিকাঠামো গড়ে তোলা বেশ কঠিন। তাই ভাসমান পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র খনি ও সংশ্লিষ্ট শিল্পাঞ্চলে নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহের বিকল্প হতে পারে। প্রকল্পটি রাশিয়ার সুমেরু ও সুদূর পূর্বাঞ্চলে পরমাণু শক্তির ব্যবহার বাড়ানোর বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। বরফে ঘেরা সমুদ্রে জাহাজের গায়ে বরফ জমা আটকাতে চুল্লির তাপ ব্যবহারের বিষয়টিও কিছু প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে নতুন এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে এমন ব্যবস্থা রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করার মতো নির্ভরযোগ্য তথ্য এখনও নেই।

 

সূত্র: World Nuclear Association/ World Nuclear News Rosatom / Atom Media; The Barents Observer

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

sixteen + ten =