সোনা দুর্লভ বলেই দুর্মূল্য

সোনা দুর্লভ বলেই দুর্মূল্য

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

এখনও পর্যন্ত পৃথিবীতে মানুষ যত সোনা খনন করেছে, তার মোট পরিমাণ আনুমানিক ২ লক্ষ ১২ হাজার থেকে ২ লক্ষ ২০ হাজার টন। আর প্রায় পুরোটাই এখনও পৃথিবীর উপরিভাগেই রয়েছে। কারণ সোনায় মরচে ধরে না, তা নষ্টও হয় না, বারবার গলিয়ে ব্যবহার করা যায়। এবার ইস্পাতের দিকে তাকানো যাক। প্রতি বছর ইস্পাত তৈরি হয় ১৮০ কোটি টনেরও বেশি। হিসাবটা ঘণ্টায় নামিয়ে আনলে দেখা যাবে, বিশ্বে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ২ লক্ষ ১১ হাজার টন ইস্পাত তৈরি হচ্ছে! অর্থাৎ, মানুষ হাজার হাজার বছরে যত পরিমাণ সোনা তুলেছে, আধুনিক শিল্প প্রায় এক ঘণ্টাতেই তার সমপরিমাণ ইস্পাত তৈরি করেছে। এই তুলনাই দেখিয়ে দেয় সোনা আর ইস্পাতের মধ্যে আকাশ-পাতাল ফারাক। ইস্পাত দিয়ে তৈরি হচ্ছে বাড়ি, সেতু, গাড়ি, যন্ত্রপাতি থেকে শুরু করে আধুনিক সভ্যতার মেরুদণ্ড। আর সোনার মূল ব্যবহার এখনও গয়না, অর্থসম্পদ এবং কিছু বিশেষ ইলেকট্রনিক যন্ত্রেই সীমাবদ্ধ। তবু এত কম পরিমাণ সোনাই হাজার হাজার বছর ধরে ধরে রেখেছে তার বিপুল অর্থনৈতিক ও কৃষ্টি মূল্য। কারণ সোনার আসল শক্তি তার ব্যবহারিক গুণে নয়, তার দুর্লভতাতে।

সূত্র: World Gold Council, “How Much Gold Has Been Mined?”.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

14 + eighteen =