স্ত্রী বেবুনরা পুরুষ সঙ্গী কী দেখে বাছে? 

স্ত্রী বেবুনরা পুরুষ সঙ্গী কী দেখে বাছে? 

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ২০ আগষ্ট, ২০২৬

মানুষের সমাজে যিনি পরিবারের জন্য খাবার জোগাতে পারেন, অনেক সময় দক্ষ ও নির্ভরযোগ্য সঙ্গী তিনিই । প্রাণীদের মধ্যেও সঙ্গীকে খাবার এনে দেওয়া প্রজনন আচরণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ বলে মনে করা হয়। কিন্তু গিনি বেবুনের সমাজে সেই সমীকরণ যেন কাজ করে না। সেনেগালের বন্য গিনি বেবুনদের নিয়ে নয় বছরের গবেষণায় দেখা গেছে, যে পুরুষ বেশি শিকার করে বা বেশি মাংস ভাগ করে নেয়, স্ত্রী বেবুনরা তাকে বেশি পছন্দ করে না। তার দলে বেশি স্ত্রীও থাকে না, স্ত্রীদের সঙ্গে সম্পর্কও দীর্ঘস্থায়ী হয় না। এদের সামাজিক কাঠামো বেশ জটিল। একটি দলে থাকে একজন প্রধান পুরুষ, তার এক বা একাধিক স্ত্রী ও তাদের সন্তান। স্ত্রী বেবুনরা দল বদলাতে পারে এবং কোন পুরুষের সঙ্গে থাকবে, সেই সিদ্ধান্তে তাদেরও ভূমিকা থাকে। আর বেছে নেওয়া সেই পুরুষই তাদের প্রধান সামাজিক সঙ্গী ও প্রায় একমাত্র প্রজননসঙ্গী। ২০১৪ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত সেনেগালের সিমেন্তি প্রাইমেট গবেষণাকেন্দ্রে জার্মান প্রাইমেট সেন্টারের গবেষকেরা ৪৬৫টি বেবুনের জীবনযাত্রা অনুসরণ করেন। তাঁরা ১০৯টি মাংস পাওয়ার ঘটনা এবং ৩২০টি মাংস হস্তান্তরের ঘটনা নথিবদ্ধ করেন। বেশির ভাগ শিকারই ছিল সুযোগসন্ধানী—পাখি বা ছোট স্তন্যপায়ী হাতের কাছে এলেই বেবুন তা ধরে ফেলত। অদ্ভুত বিষয়, যে-৬৪টি ঘটনার শিকারিকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়, তার মধ্যে ৫৭টি ক্ষেত্রে শিকারি ছিল পুরুষ, সাতটিতে স্ত্রী বেবুন। অর্থাৎ, স্ত্রীদের শিকার করার ঘটনাও প্রথম নথিভুক্ত হল। মাংস পাওয়ার ক্ষেত্রেও স্ত্রীদের নির্ভরতা শুধু প্রধান পুরুষটির ওপর ছিল না। ১৪০টি মাংস হস্তান্তরের মধ্যে ৫৯ শতাংশ এসেছিল প্রধান পুরুষসঙ্গীর কাছ থেকে; বাকিটা এসেছে অন্য পুরুষ, স্ত্রী কিংবা বিভিন্ন সামাজিক পথ ধরে। গবেষকেরা দেখেছেন, বেশি শিকার করা বা বেশি মাংস পাওয়া পুরুষদের সঙ্গে বেশি স্ত্রী থাকার কোনও সম্পর্ক নেই। দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রীদের ধরে রাখার ক্ষেত্রেও মাংস ভাগাভাগি কোনও বাড়তি সুবিধা দেয়নি।

বরং এক্ষেত্রে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল পুরুষের বয়স। প্রাপ্তবয়স্কতার প্রথম ও মধ্য পর্যায়ের পুরুষদের সঙ্গে বেশি স্ত্রী থাকার প্রবণতা দেখা গেছে। স্ত্রী বেবুনও এই বয়সের পুরুষদের সঙ্গে অপেক্ষাকৃত বেশি সময় কাটিয়েছে। তাহলে কী দেখে সঙ্গী বেছে নেয় তারা? গবেষণাটি কোনো নিশ্চিত উত্তর দেয়নি। সন্তানদের প্রতি যত্ন, স্ত্রীদের প্রতি সহনশীলতা, বিপদের সময় সুরক্ষা কিংবা সামাজিক সম্পর্ক—এসবই হয়তো সম্ভাব্য কারণ । মাংসের গুরুত্বও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বন্য পরিবেশে মাংস পাওয়ার ঘটনা অবশ্য খুবই বিরল। মাসে গড়ে মাত্র ১.১২ বার। ফলে কখনো সখনো পাওয়া একটি মাংসের টুকরো দীর্ঘমেয়াদি সঙ্গী বেছে নেওয়ার তেমন গুরুত্বপূর্ণ সংকেত নাও হতে পারে।

 

সূত্র: Earth.com; August 2026

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

one × 4 =