হাসপাতালে থাকাকালীন ব্যায়াম করে দ্রুত আরোগ্যলাভ

হাসপাতালে থাকাকালীন ব্যায়াম করে দ্রুত আরোগ্যলাভ

অসুস্থতার কারণে বা অস্ত্রোপচারের কারণে কোনো ব্যক্তি হাসপাতালে ভর্তি হলে আমরা সবাই আশা করি যে সুস্থ হয়ে ওঠার সময় তারা বিছানায় বিশ্রাম করে সময় কাটাবেন। যদিও বিশ্রাম গুরুত্বপূর্ণ, তবুও গবেষণায় দেখা গেছে অত্যধিক বসা বা বিশ্রাম নেওয়া অনেকসময় বিষয়টিকে এতটাই খারাপ করে তুলতে পারে যে আরোগ্য লাভ করতে বহু সময় ব্যতীত হয় এবং স্বাস্থ্য সংক্রান্ত অনেক সমস্যা দেখা দেয়। সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে বিশ্রামের বদলে অল্পস্বল্প শারীরিক কার্যকলাপ সাহায্য করতে পারে। হাসপাতালে থাকাকালীন দিনে মাত্র ২৫ মিনিট হাঁটাও বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্যভাবে আরোগ্যের গতি বাড়াতে পারে ও পুনরায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোধ করতে পারে।
গবেষণায় ৫৫ থেকে ৭৮ বছর বয়সী মোট ৩০০০ বয়স্ক ব্যক্তির তথ্য অধ্যয়ন করা হয়েছে যারা শ্বাসযন্ত্র বিকল হয়ে যাওয়ার মতো তীব্র অসুস্থতার কারণে বা অস্ত্রোপচারের জন্য ৭ থেকে ৪২ দিন পর্যন্ত হাসপাতালের ইন্টেনসিভ কেয়ার ইউনিট বা জেনারেল মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলেন। এক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক ক্রিয়াকলাপের পরিমাণ দেখা হয়েছে যেমন সাধারণ স্ট্রেচিং ব্যায়াম থেকে শুরু করে হাঁটা বা বিভিন্ন শ্বাস প্রশ্বাস জনিত বা এরোবিক ব্যায়াম। বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে বয়স্ক ব্যক্তিরা যারা হাসপাতালে থাকার সময় হালকা শারীরিক ক্রিয়াকলাপ যেমন হাঁটাহাঁটি করেছিলেন তাদের শারীরিক কার্যকারিতা যে ব্যক্তিরা সম্পূর্ণ বিশ্রামে ছিলেন তাদের তুলনায় বেশি এবং হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে পুনরায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঝুঁকি ১০% কম। সামগ্রিকভাবে দেখা গেছে প্রতিদিন প্রায় ৪০ মিনিট ধরে মাঝারি গতিতে হাঁটা – অর্থাৎ, এমন গতিতে হাঁটা যাতে ব্যক্তিটি হাঁফিয়ে যাবে, কার্যকারী হবে। হাসপাতালে সক্রিয় থাকা বয়স্ক ব্যক্তিদের হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়ার পরে- পড়ে যাওয়ার বা শারীরিকভাবে অক্ষম হয়ে যাওয়ার বা মৃত্যুর সম্ভাবনা সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকা ব্যক্তিদের তুলনায় ১০% কম। এর থেকে প্রমাণিত হয় যে হাসপাতালে থাকার সময় কিছু শারীরিক কার্যকলাপ অত্যধিক বিশ্রামের ক্ষতিকারক প্রভাব থেকে রক্ষা করতে পারে। হাসপাতালে থাকাকালীন সম্পূর্ণরূপে বিশ্রাম নেওয়া উচিত – এই ধারণাটি দীর্ঘদিন ধরে একটি ভুল ধারণা। আশ্চর্যজনকভাবে, সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই, পেশী এবং হাড়ের ভর হ্রাস পায়, শারীরিক শক্তি কমে যায় এবং ধীরে ধীরে স্বাধীনভাবে দৈনন্দিন কাজ করার ক্ষমতা কমে আসে। এছাড়াও রক্ত প্রবাহ এবং ফুসফুসের ক্ষমতা হ্রাস পায় এবং থ্রম্বোসিসের ঝুঁকি বেড়ে যায়। দীর্ঘ সময় ধরে বিছানায় শুয়ে থাকার ফলে ‘বেড সোর’, হজমের সমস্যা এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়। যদিও সব ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য নয় তবুও সামর্থ্য অনুযায়ী ব্যায়াম বা হাঁটাহাঁটি করতে হবে। এমনকি ছোটো ছোটো জিনিস- যেমন বিছানা থেকে ওঠা এবং বিশ্রামের জন্য কাছাকাছি একটি চেয়ারের দিকে হেঁটে যাওয়া, বা বাথরুম বা খাবার জায়গায় হেঁটে যাওয়া শরীরের পক্ষে ভালো। এর জন্য ডাক্তার, নার্স বা ফিজিওথেরাপিস্টের সাথে কথা বলে একটি উপযুক্ত রুটিনের সাহায্যে নেওয়া যেতে পারে।