হিমালয়ের হিমবাহরা সঙ্কটে

হিমালয়ের হিমবাহরা সঙ্কটে

জলবায়ু পরিবর্তন বিশ্বজুড়ে হিমবাহের গলন বাড়িয়ে তুলছে। তার ফলে বিজ্ঞানীরা এই প্রথম হিমালয়ের হিমবাহে একটি বিরল ঘটনা দেখতে পেয়েছেন। আকস্মিকভাবে হিমালয়ের হিমবাহ তার মূল গতিপথ পরিবর্তন করতে শুরু করেছে। এটি জলবায়ু পরিবর্তন এবং টেকটোনিক মুভমেন্টের কারণে হচ্ছে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।
জলবায়ু পরিবর্তনে টেকটোনিক মুভমেন্ট! হিমবাহের গতিপথ দ্রুত বদলে যাচ্ছে হিমালয়ে
ভারতীয় গবেষকরা উত্তরাখণ্ডের পিথোরাগড় জেলার উপরে কালি গঙ্গা উপত্যকায় একটি হিমবাহের উপর গবেষণা চালিয়েছিলেন। সেই গবেষণায় তাঁরা লক্ষ্য করেন যে, জলবায়ু এবং টেকটোনিক প্রভাবের কারণে হিমবাহটি হঠাৎ করে তার স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তন করেছে। গবেষকরা বিশ্বাস করেন যে, হিমবাহের অস্বাভাবিক আচরণে শুধুমাত্র জলবায়ু একটি নিয়ন্ত্রক ফ্যাক্টর নয়। তবে টেকটোনিক্স হিমবাহের ক্যাচমেন্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
হিমবাহের গতিবিধির পরিবর্তন আরও নিশ্চিত করে যে, ৭ ফেব্রুয়ারি চামোলির পার্বত্য অঞ্চলে ঘটে যাওয়া বিপর্যয়ের পিছনে অন্যতম কারণ ছিল এটি। ২০০ জনেরও বেশি লোক নিহত হয়েছিল। বিজ্ঞানীরা বলেন, ট্র্যাজেডিটি ৬ কিলোমিটার উপরে শুরু হয়েছিল, যেখানে ঢাল থেকে বরফ এবং পাথরের একটি বিশাল ভর সরে যায়, একটি বিশাল ভূমিধসের সূত্রপাত করে। যার ফলে কাদা এবং ধ্বংসাবশেষের প্রবাহের সৃষ্টি হয়, তার পথ ধরে ধ্বংসলীলা চলে।
ধ্বংসাবশেষের প্রবাহ একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটায়, যা প্রায় ২০ হেক্টর বনভূমিকে সমতল করে দেয়। এই ঘটনাটি দেখিয়েছিল যে, কীভাবে শিলার ভরের উপর উপর হিমবাহ ছিল। তা আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে জয়েন্টগুলিতে গলিত জলের ক্ষরণ, ক্রেভাসেস, জমাট ও গলানো, তুষারপাত, ওভারলোডিং এবং ধীরে ধীরে টেকটোনিক মুভমেন্টের ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যান্ত্রিক বিচ্ছিন্নতার দিকে নিয়ে যায়। তার কারণে ধীরে ধীরে ভঙ্গুর হয়ে পড়ে এবং হিমবাহের উৎস শিলা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
গবেষণায় উঠে আসে, হিমালয় একটি সক্রিয় পর্বতশ্রেণী এবং অত্যন্ত ভঙ্গুর যেখানে টেকটোনিক এবং জলবায়ু একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দেরাদুনের ওয়াদিয়া ইনস্টিটিউট অফ হিমালয়ান জিওলজির বিজ্ঞানীদের একটি দল দ্বারা পরিচালিত নতুন গবেষণাটি ‘জিওসায়েন্স জার্নালে’ প্রকাশিত হয়েছে।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ নামহীন এই হিমবাহ কুঠি যঙ্কতি উপত্যকায় (কালী নদীর একটি উপনদী) চার বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে আচমকা তার মূল গতিপথ পরিবর্তন করেছে। টেকটোনিক বলপ্রয়োগের ফলে উত্তর-পূর্ব চলমান হিমবাহটি ছোট করা হয়েছে এবং দক্ষিণ-পূর্ব দিকে যেতে বাধ্য হয়েছে। শেষ পর্যন্ত সুমজুরচাঙ্কি নামক হিমবাহের সাথে মিলিত হয়েছে।