বিজ্ঞানীদের এতদিনের বিশ্বাস ছিল মানবদেহের জিনোমে কমবেশি ২০ হাজার জিন রয়েছে, যেগুলো থেকে ভিন্ন ভিন্ন প্রোটিন তৈরি হয় । কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, আমাদের কোষে আরও হাজার হাজার রহস্যময় অপরিচিত (ডার্ক) প্রোটিন থাকতে পারে। এই প্রোটিনগুলোর কাজ এখনো পুরোপুরি বোঝা যায়নি। কিন্তু বিজ্ঞানীদের ধারণা জীববিজ্ঞানে এই প্রোটিনগুলোর ইতিবাচক ভূমিকা থাকলেও থাকতে পারে।
সম্প্রতি বিজ্ঞান পত্রিকা নেচারে প্রকাশিত এক গবেষণায় এই প্রোটিনগুলোর নতুন নাম দেওয়া হয়েছে — “পেপটাইডিন’’। এগুলোকে এখন বড় বড় জিন ও প্রোটিন ডেটাবেসের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে, যাতে বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীরা এদের নিয়ে আরও গভীরভাবে গবেষণা করতে পারেন।
আগে এই প্রোটিনগুলোকে “মাইক্রোপ্রোটিন’’ বা “নন-ক্যানোনিক্যাল ডার্ক প্রোটিন’’ বলা হতো। কিন্তু সমস্যা ছিল, এরা সাধারণ প্রোটিনের তুলনায় অনেক ছোট এবং অন্য প্রাণীতে এদের অনুরূপ সংস্করণ খুব কম পাওয়া যায়। তাই এতদিন এগুলোকে কোনো গুরুত্বই দেওয়া হয়নি। অনেক ক্ষেত্রেই এদের জিন পরিচিত জিনের খুব কাছাকাছি বা একই অঞ্চলে মেশামিশি করে থাকে, ফলে সেগুলো শনাক্ত করাও সহজ ছিল না।
গবেষণাটি পরিচালনা করেছে ট্রান্সকোড কনসোর্টিয়াম নামের একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা দল। তারা ৭,২৬৪টি সম্ভাব্য ডার্ক প্রোটিন-কোডিং ডিএনএ সিকোয়েন্স বিশ্লেষণ করে। এর মধ্যে মাত্র ১৫টির ক্ষেত্রে জোরালো প্রমাণ পাওয়া গেছে যে সেগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রোটিন-কোডিং জিন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া যায়। তবে আরও হাজার হাজার সম্ভাব্য পেপটাইডিনের উপস্থিতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, যদিও তাদের কাজ এখনো অজানা।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, কিছু পেপটাইডিনের সঙ্গে শিশুদের ক্যানসারসহ বিভিন্ন রোগের সম্পর্ক থাকলেও থাকতে পারে। আবার কিছু হয়তো কোষের মৌলিক কাজকর্ম নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তবে অনেক পেপটাইডিন হয়তো কেবল কোষীয় প্রক্রিয়ার উপজাত, যাদের নির্দিষ্ট কোনো কাজ নেই।
গবেষকদের মতে, এই নতুন শ্রেণিবিন্যাস জীববিজ্ঞানকে অবধারিতভাবে একটা নতুন পথ দেখাবে। যেমন একসময় সৌরজগতের বামন গ্রহ নিয়ে নতুনভাবে আগ্রহ তৈরি হয়েছিল, তেমনিই এই ক্ষুদ্র প্রোটিনগুলোও হয়তো ভবিষ্যতে জীববিজ্ঞান ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের গুরুতর রহস্য উন্মোচন করবে।
সূত্র: doi: https://doi.org/10.1038/d41586-026-01492-x
