অতি ক্ষুদ্র মাইক্রোপ্রোব 

অতি ক্ষুদ্র মাইক্রোপ্রোব 

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ২৮ অক্টোবর, ২০২৬

সম্প্রতি চীনের গবেষকরা এক অতি ক্ষুদ্র ইমেজিং যন্ত্র বানিয়েছেন। এর সাহায্যে হৃদ্‌রোগ ও মস্তিষ্কের রক্তনালির অসুখ নির্ণয়ে আরও সূক্ষ্ম ছবি তোলা এখন সহজেই সম্ভব। মাত্র ০.৫৫ মিলিমিটার ব্যাসের এই মাইক্রোপ্রোব সরু ও বাঁকানো রক্তনালির ভিতরে প্রবেশ করে তার দেওয়ালের উচ্চ রেজোলিউশনের ছবি তুলতে সক্ষম। ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি মস্তিষ্কের সূক্ষ্ম রক্তনালিতে চর্বিজাতীয় আস্তরণ বা প্লাক শনাক্ত করা এবং তার উপর ভিত্তি করে চিকিৎসার পরিকল্পনা করতেও সহযোগিতা করবে।

হৃদ্‌রোগ আজকের দিনে বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। ধমনির ভিতরে চর্বিজাতীয় পদার্থ জমে প্লাক তৈরি হলে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এই প্লাক ফেটে গেলে রক্ত জমাট বেঁধে গুরুতর হৃদ্‌রোগ বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে। ধমনির ভিতরের অবস্থা বোঝার জন্য চিকিৎসকেরা ইনট্রাভাসকুলার অপটিক্যাল কোহেরেন্স টোমোগ্রাফি (IV-OCT) প্রযুক্তি ব্যবহার করেন। এতে ক্যাথেটারের প্রান্ত থেকে নির্গত প্রায়-অবলোহিত রশ্মি রক্তনালির গাত্রে প্রতিফলিত হয়ে ফিরে আসে। সেই আলোর বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করেই রক্তনালির ভিতরের সূক্ষ্ম গঠন সম্পর্কে ত্রিমাত্রিক ধারণা পাওয়া যায়।

কিন্তু প্রচলিত যন্ত্রের আকার এই প্রযুক্তির ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা তৈরি করে। সাধারণত প্রায় ২ মিলিমিটার ব্যাসের ক্যাথেটার মাঝারি ও বড় রক্তনালিতে কার্যকর হলেও আরও সরু নালিতে প্রবেশ করানো কঠিন। পাশাপাশি, ক্যাথেটার ঘোরানোর সময় ঘর্ষণের কারণে ছবিতে বিকৃতি দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে, ক্যাথেটারের ভিতরে থাকা মোটর ও তারের জন্য সম্পূর্ণ ৩৬০ ডিগ্রি পরিসরে ছবি তোলাও বাধাগ্রস্ত হয়।

এই সমস্যার সমাধানে নানজিং ইউনিভার্সিটি অব অ্যারোনটিক্স অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোনটিক্সের দাওয়েই উ এবং নানজিং বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল স্কুলের রুই লিউ-এর নেতৃত্বাধীন গবেষকদল নতুন মাইক্রোপ্রোবটি তৈরি করেছেন। এতে তড়িৎচুম্বকীয় মোটরের পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়েছে একটি ক্ষুদ্র পাইজোইলেকট্রিক ব্যবস্থা। বৈদ্যুতিক ভোল্টেজ প্রয়োগ করলে পাইজোইলেকট্রিক কেলাস প্রসারিত ও সংকুচিত হয়। এর ফলে কাচের নলে কম্পন তৈরি হয়। নলের গায়ে বিশেষ কোণে তৈরি খাঁজ সেই সরলরৈখিক কম্পনকে ঘূর্ণনগতিতে রূপান্তরিত করে, যার সাহায্যে লেন্স ঘুরে ঘুরে চারপাশের ছবি তোলে।

পরীক্ষায় দেখা যায়, প্রতি সেকেন্ডে ৫০ বার ঘূর্ণনের সময় প্রোবটির কৌণিক বিচ্যুতি ছিল মাত্র ১ ডিগ্রি। প্রচলিত ব্যবস্থায় এই বিচ্যুতি হয় প্রায় ৯ ডিগ্রি। উদ্ভিদের পাতার সূক্ষ্ম শিরা, রক্তনালিতে ব্যবহৃত স্টেন্ট এবং শূকরের দেহ থেকে সংগৃহীত রক্তনালিতে পরীক্ষা করেও এর কার্যকারিতা যাচাই করা হয়। এমনকি পূর্ণ আকারের মানব রক্তনালির একটি মডেলের মধ্য দিয়ে প্রোবটি মধ্য মস্তিষ্কের ধমনি পর্যন্ত পৌঁছতে সক্ষম হয়। মানুষের প্লাকের ছবি হিস্টোলজিক্যাল বিশ্লেষণের সঙ্গে তুলনা করেও গবেষকেরা সন্তোষজনক মিল পেয়েছেন।

বায়োমেডিক্যাল অপটিক্স এক্সপ্রেস পত্রিকায় সম্পূর্ণ গবেষণাটির বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশিত হয়েছে। তবে রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহারের আগে যন্ত্রটির আরও উন্নয়ন ও ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা প্রয়োজন।

 

সূত্র: Miniature microprobe enables internal imaging of smaller blood vessels than ever before 23rd Sep, 2026 Zoe Richardson.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

9 − 4 =