অপসৃয়মান মেঘবলয় ও বিশ্ব উষ্ণায়ন 

অপসৃয়মান মেঘবলয় ও বিশ্ব উষ্ণায়ন 

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ৪ আগষ্ট, ২০২৬

দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে সমুদ্রের উপর ভেসে থাকা নীচু স্তরের উজ্জ্বল স্ট্র্যাটোকিউমুলাস মেঘ পৃথিবীর উষ্ণতা কিছুটা কমিয়ে রাখতে সাহায্য করেছে। ১৯৭৯ সাল থেকে উপগ্রহের তথ্য বলছে, বিশেষ করে পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরসহ উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলে এই ধরনের মেঘের বিস্তার বেড়েছিল। সাদা এই মেঘ সূর্যের আলোকে প্রতিফলিত করে মহাকাশে ফিরিয়ে দেয়, ফলে পৃথিবীর পৃষ্ঠ কম তাপ শোষণ করে। গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি বর্গমিটারে প্রায় ০.৩২ ওয়াট তাপ কম শোষিত হয় এই মেঘের দরুন। যদিও মানুষের কর্মকাণ্ড থেকে নির্গত গ্রিনহাউস গ্যাস বর্তমানে প্রতি বর্গমিটারে প্রায় ২.৭২ ওয়াট অতিরিক্ত উষ্ণতা তৈরি করছে, তবুও এই মেঘ সেই প্রভাবের একটি ছোট অংশকে সাময়িকভাবে কমিয়ে রেখেছে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা সতর্ক করছেন, এই প্রাকৃতিক সুরক্ষা ক্রমে দুর্বল হয়ে পড়ছে। ২০০৩ সালের পর থেকে বিশ্বজুড়ে নীচু স্তরের মেঘের পরিমাণ কমতে শুরু করেছে। সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও বায়ুমণ্ডলের পরিবর্তনের কারণে এই মেঘ দীর্ঘক্ষণ টিকে থাকতে পারছে না। ফলে ভবিষ্যতে পৃথিবী আরও বেশি করে সূর্যালোক শোষণ করবে এবং বিশ্ব উষ্ণায়ন আরও দ্রুত বাড়তে পারে। এল নিনো-র সময়ও একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা যায়, যখন নীচু মেঘ কমে গিয়ে উষ্ণতা বেড়ে যায়।জলবায়ু পরিবর্তনে মেঘের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও এখনও সে-ভূমিকা ঠিক কী তা পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। তাই ভবিষ্যতের ঝুঁকি কমাতে গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন দ্রুত কমানোই সবচেয়ে জরুরি। বিজ্ঞানীরা অবশ্য আরও সুদক্ষ মডেল তৈরির কাজে লেগে আছে, যাতে আরও নিখুঁত পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব হয়।

 

সূত্র: New Scientist, “Cloudy skies have slowed global warming – but that may be changing” (July 2026).

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

five + twenty =