অ্যান্টার্কটিকার একটি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি প্রতিদিন বায়ুমণ্ডলে খাঁটি সোনার অতি সূক্ষ্ম কণা ছড়িয়ে দিচ্ছে। বিজ্ঞানীদের মতে, পৃথিবীতে এটিই একমাত্র পরিচিত আগ্নেয়গিরি যা এই ধরনের বিরল ঘটনা ঘটায়। অ্যান্টার্কটিকার রস দ্বীপে অবস্থিত মাউন্ট এরেবাস পৃথিবীর সবচেয়ে দক্ষিণে অবস্থিত সক্রিয় আগ্নেয়গিরি। ভৌগোলিক দক্ষিণ মেরু থেকে প্রায় ১,৩৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই আগ্নেয়গিরিটি পৃথিবীর কয়েকটি স্থায়ী লাভা হ্রদযুক্ত আগ্নেয়গিরির অন্যতম। এটি নিয়মিতভাবে উত্তপ্ত আগ্নেয় গ্যাস নির্গত করে। প্রথম ১৯৯১ সালে জানা যায় যে, মাউন্ট এরেবাস থেকে প্রতিদিন প্রায় ৮০ গ্রাম ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র সোনার কণা বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে। এই সোনার কণাগুলি এতটাই ছোট যে সেগুলি খালি চোখে দেখা সম্ভব নয়। গবেষকরা আগ্নেয়গিরির নির্গত গ্যাস, আশপাশের তুষার এবং এমনকি আগ্নেয়গিরি থেকে প্রায় ১,০০০ কিলোমিটার দূরের অ্যান্টার্কটিকার বায়ুমণ্ডলেও এই সোনার কণার উপস্থিতি শনাক্ত করেছেন। সাধারণত আগ্নেয়গিরিতে সোনা রাসায়নিক উপাদান হিসেবে অতি সামান্য পরিমাণে পাওয়া যায়। কিন্তু মাউন্ট এরেবাসের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা খাঁটি মৌলিক সোনার ক্ষুদ্র কেলাসের সন্ধান পেয়েছেন। গবেষকদের ধারণা, ক্লোরিন বা সালফারসমৃদ্ধ আগ্নেয় গ্যাসের মাধ্যমে সোনা উপরে উঠে আসে এবং গ্যাস ঠান্ডা হওয়ার সময় ক্ষুদ্র কেলাসে পরিণত হয়। তবে এই প্রক্রিয়াটি ঠিক কীভাবে ঘটে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। আবিষ্কারের তিন দশকেরও বেশি সময় পরেও বিজ্ঞানীরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারেননি কেন শুধুমাত্র মাউন্ট এরেবাসই বায়ুমণ্ডলে সোনার কেলাস ছড়াতে সক্ষম। এই কারণেই মনে করা হয় যে অ্যান্টার্কটিকার এই আগ্নেয়গিরিটি কবিশ্বের অন্যতম রহস্যময় আগ্নেয়গিরি। বিজ্ঞানীদের মতে, মাউন্ট এরেবাসের এই অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য পৃথিবীর আগ্নেয়গিরি এবং ভূ-রাসায়নিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে নতুন তথ্য জানার সুযোগ তৈরি করতে পারে।
সূত্র : based on research published in Geophysical Research Letters.
