আবিষ্কার হল নতুন দুই উৎসেচক

আবিষ্কার হল নতুন দুই উৎসেচক

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ২৯ জুন, ২০২৬

আণবিক জীববিজ্ঞানের ইতিহাসে DRT3 এবং DRT7 নামক দুটি নতুন উৎসেচকের আবিষ্কারকে প্রায় একপ্রকার যুগান্তকারী ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই আবিষ্কার আমাদের জিনগত তথ্যের উৎপত্তি ও উত্তরাধিকার সম্পর্কে দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত ধারণাকে ওলট পালট করে নতুন পথ দেখিয়েছে।

গত কয়েক দশক ধরে জীববিজ্ঞানের অন্যতম অলঙ্ঘনীয় নীতি ছিল: জৈবিক তথ্যের প্রবাহ ঘটে ডিএনএ (DNA) থেকে আরএনএ (RNA) অভিমুখে এবং সেখান থেকে প্রোটিনে। এই প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলো ডিএনএ পলিমারেজ নামক উৎসেচকটি। এটি ডিএনএ থেকে ডিএনএ তৈরি (রেপ্লিকেশন) করবার জন্য সবসময় একটি বিদ্যমান ডিএনএ টেমপ্লেট বা ছাঁচের ওপর নির্ভর করে। অর্থাৎ, নতুন জিনগত তথ্য তৈরির জন্য আগে থেকেই একটি নির্মাণ ছক থাকা আবশ্যক বলে মনে করা হতো।

কিন্তু DRT3 এবং DRT7 এই ধারণা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, এরা সম্পূর্ণ নতুনভাবে ডিএনএ তৈরি করতে সক্ষম। অর্থাৎ, কোনো পূর্ববর্তী ছাঁচ ছাড়াই তারা নিউক্লিওটাইডগুলোকে একত্রিত করে নতুন ডিএনএ সিকোয়েন্স গঠন করতে পারে। এটি জীববিজ্ঞানে এক সম্পূর্ণ নতুন প্রক্রিয়ার ইঙ্গিত দেয়, যেখানে জিনগত তথ্য সরাসরি সৃষ্টি হতে পারে।

DRT3 আবিষ্কারের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই DRT7 -এর সন্ধান আরও গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় প্রমাণ করে। সেটি হল, ছাঁচ- নিরপেক্ষ ডিএনএ সংশ্লেষণ কোনো বিরল বা বিচ্ছিন্ন বিবর্তনীয় ঘটনা নয়। বরং জীবজগতের বিভিন্ন শাখায় এই ক্ষমতা হয়তো স্বাধীনভাবে বিকশিত হয়ে থাকতে পারে।

আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, DRT3 এবং DRT7 একই কাজ করলেও তাদের কার্যপদ্ধতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। কাঠামোগত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, DRT3 একটি বিশেষ জ্যামিতিক গহ্বরের মাধ্যমে নির্দিষ্ট নিউক্লিওটাইডকে ধরে ডিএনএ তৈরি করে। অন্যদিকে DRT7 একটি উন্মুক্ত অনুঘটকীয় খাঁজ ব্যবহার করে, যা অনেক বেশি নমনীয় ও নির্দেশনাবিহীনভাবে নিউক্লিওটাইড যুক্ত করতে পারে। এই কাঠামোগত পার্থক্য ইঙ্গিত দেয় যে প্রকৃতি একাধিকবার স্বাধীনভাবে “শূন্য থেকে জিনগত তথ্য সৃষ্টি” করার কৌশল উদ্ভাবন করেছে।

এই আবিষ্কারের জৈবপ্রযুক্তিগত গুরুত্বও অসাধারণ। বর্তমানে কৃত্রিম জিন তৈরির জন্য জটিল রাসায়নিক পদ্ধতি ও ব্যয়বহুল প্রযুক্তির প্রয়োজন হয়। কিন্তু DRT7 -এর মতো উৎসেচককে কাজে লাগানো গেলে ভবিষ্যতে সম্পূর্ণ উৎসেচক-ভিত্তিক, পরিবেশবান্ধব ডিএনএ প্রিন্টিং প্রযুক্তি তৈরি হতে পারে। এর ফলে জিন প্রকৌশল, সিন্থেটিক বায়োলজি, জৈব-চিকিৎসা এবং জৈবপ্রকৌশলের ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটতে পারে।

DRT3 এবং DRT7 -এর আবিষ্কার নতুন দুটি উৎসেচকের সন্ধানের পাশাপাশি এটি জীবনের মৌলিক নীতিগুলোকে পুনর্মূল্যায়নের আহ্বান। এই গবেষণা দেখায় যে জীবনের জৈবিক যন্ত্রপাতি কখনও কখনও প্রচলিত উত্তরাধিকার ব্যবস্থাকে পাশ কাটিয়ে সম্পূর্ণ নতুন জেনেটিক কোড সৃষ্টি করতে সক্ষম।

 

সূত্র: #MolecularBiology #Genetics #DRT7 #SyntheticBiology #CentralDogma #ScienceBreakthrough #DeNovoDNA

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eighteen − 1 =