বিশ্বজুড়ে বাড়ছে অনলাইনে ঘৃণা বা বিদ্বেষমূলক বক্তব্যর মাত্রা। জাতি, ধর্ম বা অন্য কোনও জন্মগত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে আক্রমণ-এর মূল বৈশিষ্ট্য। নির্বাচন, অভিবাসন-সংকট থেকে শুরু করে খেলা, ধর্ম, বিভিন্ন ঘটনাই পারে এই বিদ্বেষ উসকে দিতে। সদ্য প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা গিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত মানুষদের লক্ষ্য করে টুইটার বা এক্স -এ বিদ্বেষমূলক পোস্টের সংখ্যা ২০২৪ সালের জানুয়ারি তুলনায় ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে ২৪০ শতাংশ বেড়েছে। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন প্রযুক্তির ঝুঁকিও। এআই দিয়ে তৈরি ভুয়ো ছবি, ভিডিয়ো ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট খুব দ্রুত ছড়িয়ে কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সম্পর্কে মিথ্যা ধারণা ও বিদ্বেষ তৈরি করা হচ্ছে আকচার। আবার বট অ্যাকাউন্ট দিয়ে একই ধরনের উস্কানিমূলক কোন পোস্ট বারবার ছড়িয়ে দিয়ে কোনও নির্দিষ্ট বক্তব্যকে বাস্তবের তুলনায় অনেক বেশি জনপ্রিয় বা সর্বব্যাপী বলেও মনে করানো প্রায়ই ঘটে। ফলে অনলাইন বিদ্বেষ শুধু বাড়ছেই না, তা আরও দ্রুত, সংগঠিত এবং বিশ্বাসযোগ্য চেহারায় ছড়িয়ে পড়ছে।
ভিয়েনার কমপ্লেক্সিটি সায়েন্স হাব-এর গবেষক মির্তা গালেসিচ ঘৃণামূলক বক্তব্য এবং তার পাল্টা প্রতিক্রিয়া বা কাউন্টারস্পিচ নিয়ে গবেষণা করছেন। গালেসিচ-এর গবেষণায় উঠে এসেছে একটি সহজ কৌশল – চুপ না থাকা। অনলাইনে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দেখলে সরাসরি বলা যায়, “আমি একমত নই।” দীর্ঘ তর্কে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। লক্ষ্য বক্তার মত বদলানো নয়, বরং অন্যদের দেখানো যে, এই বক্তব্যের বিরোধিতাও আছে। এক্ষেত্রে আরও কার্যকর হতে পারে অন্য বন্ধুদেরও সেই আপত্তিতে সামিল করা। একই সঙ্গে ভিন্নমতের মানুষকে পুরোপুরি এড়িয়ে না গিয়ে তার সঙ্গে কথা বলা, মিলের জায়গাগুলি খুঁজে বের করাও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অনলাইন দুনিয়ায় একই ধরনের চরম বক্তব্য বারবার চোখে পড়লে সেটিই ধীরে ধীরে ‘স্বাভাবিক’ বলে মনে হতে পারে। ভয়, অনিশ্চয়তা ও পরিচয়-নির্ভর বিভাজন তখন ঘৃণাকে আরও উসকে দেয়। গালেসিচ-এর নিজের অভিজ্ঞতাও এ গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ। সাবেক যুগোস্লাভিয়ায় বড় হয়ে তিনি দেখেছেন, কীভাবে বহু- কৃষ্টির একটি সমাজ দ্রুত ‘আমরা বনাম ওরা’-র বিভাজনে ভেঙে পড়তে পারে। রাজনৈতিক নেতারা ভয় দেখিয়ে কোনও একটি গোষ্ঠীকে ‘শত্রু’ হিসেবে তুলে ধরলে মানুষ কখনও কখনও যুক্তি ও তথ্যের চেয়ে গোষ্ঠীগত পরিচয়কেই বেশি গুরুত্ব দিতে শুরু করে। আর সেখানেই শিক্ষা – ঘৃণার বিরুদ্ধে লড়াই সবসময় বড় বড় বক্তৃতা দিয়ে শুরু করার দরকার নেই। কখনও শুধু “আমি একমত নই” বলা এবং অন্যদেরও তা বলতে উৎসাহিত করাই গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ। আজকের ভারতের পরিস্থিতিতে আমরা কি এই গবেষণা থেকে কিছু শিখতে পারি?
Nature; October , 2026
