আর্দ্রতার রকমফেরে মৌমাছির রং বদল 

আর্দ্রতার রকমফেরে মৌমাছির রং বদল 

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ১ মে, ২০২৬

সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে বাতাসে আর্দ্রতার সামান্য পরিবর্তনই একটি মৌমাছির রঙ পুরোপুরি বদলে দিতে পারে। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, বিশেষ ধরনের ক্ষুদ্র ‘সোয়েট’ মৌমাছি শুষ্ক পরিবেশে গাঢ় নীল দেখায়, কিন্তু বাতাসে জলীয় বাষ্প বাড়লেই তার শরীরের রঙ তামাটে-সবুজ আভায় ঝলমল করতে শুরু করে।

গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে বায়োলজি লেটার্স নামক পত্রিকাতে। এতে গবেষকেরা সরু সরু ডোরা কাটা এক প্রজাতির সোয়েট বি-র (Agapostemon subtilior) ওপর পরীক্ষা চালান। এই মৌমাছির ধাতব ঝলমলে রঙ স্থির নয়, পরিবেশের আর্দ্রতার হেরফেরে বদলে যেতে পারে, এটাই ছিল গবেষণার সবচেয়ে বড় আবিষ্কার।

নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষাগারে বিজ্ঞানীরা মৌমাছিগুলোকে বিভিন্ন মাত্রার আর্দ্রতায় পর্যবেক্ষণ করেন। দেখা যায়, যখন বাতাস শুষ্ক থাকে, তখন মৌমাছিগুলো উজ্জ্বল নীল দেখায়। কিন্তু ধীরে ধীরে আর্দ্রতা বাড়ানো হলে সেই নীল রঙ মিলিয়ে গিয়ে সবুজাভ-তামাটে রঙ ফুটে ওঠে। আরও আশ্চর্যের বিষয় হলো, পরিবেশ আবার শুকনো হলে মৌমাছিরা পুনরায় নীল রঙে ফিরে আসে। অর্থাৎ এটি স্থায়ী পরিবর্তন নয়, বরং পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এক তাৎক্ষণিক ভৌত প্রতিক্রিয়া।

সাধারণভাবে অনেক প্রাণীর রঙ তৈরি হয় শরীরে থাকা রঞ্জক পদার্থের কারণে। কিন্তু এ ধরনের মৌমাছির ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। এদের শরীরের বাইরের আবরণে রয়েছে অতি সূক্ষ্ম আণুবীক্ষণিক গঠন, যা আলো প্রতিফলনের ধরন নিয়ন্ত্রণ করে। এই ক্ষুদ্র গঠনগুলো আর্দ্রতার সংস্পর্শে এসে সামান্য ফুলে ওঠে বা আকার বদলায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে আলো ভিন্নভাবে প্রতিফলিত হয় এবং আমাদের চোখে রঙও বদলে যায়।

গবেষক দল শুধু পরীক্ষাগারেই থেমে থাকেননি। তারা মাঠে তোলা ছবি এবং সংগ্রহশালায় সংরক্ষিত পুরোনো নমুনাও বিশ্লেষণ করেন। দেখা যায়, শুষ্ক অঞ্চলের মৌমাছিগুলো বেশি নীলাভ, আর পুরোনো সংরক্ষিত নমুনায় রঙের পরিবর্তন আরও বেশি স্পষ্ট। সম্ভবত দীর্ঘ সময় ধরে বাইরের আবরণে গঠনগত পরিবর্তনের কারণেই এমনটা ঘটে।

বিজ্ঞানীদের মতে, এই আবিষ্কার ইঙ্গিত দেয় যে আর্দ্রতার কারণে রঙ বদলানো ঘটনা শুধু এই প্রজাতিতেই সীমাবদ্ধ নয়—অন্যান্য মৌমাছি বা পোকামাকড়ের মধ্যেও এটি থাকতে পারে। তবে এর প্রকৃত পরিবেশগত বা আচরণগত গুরুত্ব এখনো পরিষ্কার নয়। এটির উদ্দেশ্য সঙ্গী নির্বাচন, শত্রু এড়ানো, নাকি নিছক ভৌত প্রভাব, তা জানতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। প্রকৃতির ক্ষুদ্র প্রাণীদের ভেতরে যে কত জটিল বিজ্ঞান লুকিয়ে আছে, এই গবেষণা তারই একটা প্রমাণ।

 

সূত্র: Biology Letters, Queen Mary University of London research study (as reported in Popular Science).

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

3 + thirteen =