ল্যাবে তৈরি মানুষের মস্তিষ্কের টিস্যু ইঁদুরের মস্তিষ্কে বসিয়ে চমকপ্রদ ফল পেলেন স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা। মানুষের কোষগুলি সেখানে শুধু বেঁচেই থাকেনি, ইঁদুরের মস্তিষ্কের সঙ্গে জুড়ে গিয়ে সেখানেই বেড়ে উঠেছে। গবেষণার জন্য এমন কিছু ইঁদুর তৈরি করা হয়েছিল, যাদের মস্তিষ্কের একটি বড় অংশ ছিল না। এই অংশটি সাধারণত চিন্তা করা, শেখা ও স্মৃতির সঙ্গে সম্পর্ক যুক্ত। ইঁদুরগুলির জন্মের পরপরই সেই জায়গায় মানুষের স্টেম সেল থেকে তৈরি ছোট্ট মস্তিষ্কের টিস্যু বসানো হয়। শুরুতে ঐ টিস্যুতে ছিল প্রায় এক লক্ষ মানব কোষ। তিন মাসের মধ্যে সেটি প্রায় পাঁচ গুণ বড় হয়ে যায়। একসময় দেখা যায়, ইঁদুরের মস্তিষ্কের ওই অংশের ৯০ শতাংশেরও বেশি জুড়ে রয়েছে মানুষের কোষ। শুধু তাই নয়, এই কোষগুলি নানা ধরনের মানব স্নায়ুকোষে পরিণত হয় এবং ইঁদুরের স্নায়ুতন্ত্রের সঙ্গেও যোগাযোগ তৈরি করে। সেই যোগাযোগ মেরুদণ্ড পর্যন্ত পৌঁছে যায়। মানুষের মস্তিষ্ক কীভাবে তৈরি হয় এবং কীভাবে কাজ করে, তা আরও ভালোভাবে বুঝতে সাহায্য করতে পারে এই পরীক্ষা। অটিজম, মৃগী ও স্কিজোফ্রেনিয়া প্রভৃতি রোগ নিয়েও নতুন করে গবেষণা করা সম্ভব হতে পারে। তবে গবেষণাটি নতুন একটি প্রশ্নও তুলছে – ইঁদুরের মস্তিষ্কে মানুষের টিস্যু এতটা বেড়ে উঠলে তার আচরণ ও মস্তিষ্কের কাজে কতটা পরিবর্তন আসবে? আরও অনেক গবেষণা বাকি।
সুত্র: Nature, Stanford University study by Pașca et al., Sep
