এআই নিয়ে কথা মানেই অ্যালগরিদম, শক্তিশালী চিপ, বিশাল ডেটা সেন্টার আর বিপুল বিনিয়োগ। কিন্তু এর নেপথ্যে রয়েছে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ জগৎ, ‘অ্যাডভান্সড মেটেরিয়ালস’, অর্থাৎ এমন বিশেষ পদার্থ উপাদান, যা এই প্রযুক্তিকে বাস্তবে কাজ করতে সাহায্য করে। এআই যত শক্তিশালী হচ্ছে, তত বাড়ছে প্রসেসিং, মেমরি, শক্তি সাশ্রয় এবং নির্ভরযোগ্যতার চাহিদা। ফলে শুধু চিপের নকশা নয়, চিপ ও ডেটা সেন্টারের উপাদানগুলিকেও আরও উন্নত হতে হচ্ছে। সামান্য তাপমাত্রার পরিবর্তন বা রাসায়নিক অস্থিরতাও চিপে ত্রুটি তৈরি করতে পারে। তাই প্রয়োজন আরও বিশুদ্ধ, স্থিতিশীল এবং চরম পরিবেশ- সহ পলিমার ও বিশেষ তরল। চাপ বাড়ছে ডেটা সেন্টারেও। বেশি কম্পিউটিং শক্তি মানেই বেশি তাপ, বিদ্যুৎ ও ডেটা ট্রান্সফারের চাপ। তাই দরকার উন্নত কুলিং, উচ্চ-ভোল্টেজ পাওয়ার সিস্টেম, দ্রুত স্টোরেজ ও নির্ভরযোগ্য যন্ত্রাংশ। এমনকি বৈদ্যুতিক গাড়ি ও সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের কুলিং প্রযুক্তিও এখন এআই সার্ভারের লিকুইড কুলিংয়ে কাজে লাগানো হচ্ছে। তবে শুধু কার্যকারিতা নয়, নতুন উপাদানকে আরও পরিবেশবান্ধবও হতে হচ্ছে। আর এখানেও কাজে আসছে এআই। আগে নতুন উপাদান খুঁজতে একের পর এক পরীক্ষা চালাতে হত। এখন এআই সম্ভাবনাময় অণুগুলিকে আগেই চিহ্নিত করে দিতে পারে। সিয়েনস্কোও মাইক্রোসফটের ডিসকভারি-সহ বিভিন্ন এআই টুল ব্যবহার করে সেমিকন্ডাক্টর ও ডেটা সেন্টারের জন্য নতুন হিট-ট্রান্সফার ফ্লুইড খুঁজছে। এখানে যা মাথায় রাখা দরকার তা হল, এআই বিজ্ঞানীদের জায়গা নিচ্ছে না, গবেষণার গতি বাড়াচ্ছে। মোদ্দা কথা, এআই যত দ্রুত এগোবে, মেটিরিয়াল সায়েন্সকেও তত দ্রুত এগোতে হবে। কারণ অনেক সময় প্রযুক্তির সীমা ঠিক করে দেয় চিপ নয়, চিপটি যে উপাদান দিয়ে তৈরি, সেটিই ।
সূত্র: MIT Technology; 2026
